পেঁয়াজ চাষে বিভিন্ন প্রকার রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ একটি সাধারণ সমস্যা।
এটি ছত্রাকজনিত একটি মারাত্মক রোগ। অতিরিক্ত শিশির ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এটি দ্রুত ছড়ায়।
লক্ষণ: পাতায় প্রথমে ক্ষুদ্র বাদামী বা হলুদ দাগ পড়ে। পরে দাগগুলো বড় হয়ে বেগুনি বা কালো রঙ ধারণ করে এবং পাতা ওপর থেকে মরতে শুরু করে।
প্রতিকার: * সুস্থ বীজ ব্যবহার ও আক্রান্ত অংশ পুড়িয়ে ফেলা।
বীজ শোধনের জন্য প্রতি কেজি বীজে ২.৫ গ্রাম প্রোভেক্স বা রুভরাল মেশান।
আক্রমণ দেখা দিলে রিডোমিল গোল্ড (২ গ্রাম/লিটার) ১০-১২ দিন পরপর ৩-৪ বার স্প্রে করুন।
লক্ষণ: পাতায় ছোট ছোট সাদা দাগ দেখা যায়, যা পরে একত্রিত হয়ে পুরো মাঠ পুড়ে যাওয়ার মতো দেখায়।
প্রতিকার: শস্য পর্যায় (একই জমিতে বারবার পেঁয়াজ না করা) অনুসরণ করুন। আক্রান্ত গাছে ব্যভিস্টিন (১ গ্রাম/লিটার) ১০-১২ দিন পরপর ৩-৪ বার স্প্রে করুন।
মাটিতে থাকা ছত্রাকের কারণে এই রোগ হয়। অধিক তাপ ও আর্দ্রতায় এটি বৃদ্ধি পায়।
লক্ষণ: গাছ হাত দিয়ে টান দিলে সহজে উঠে আসে। আক্রান্ত স্থানে সরিষার দানার মতো বাদামী গুটি দেখা যায়।
প্রতিকার: চারা রোপণের আগে ট্রাইকোডারমা বা প্রোভেক্স দিয়ে শোধন করুন। জমিতে পানি নিষ্কাশনের ভালো ব্যবস্থা রাখুন।
লক্ষণ: পাতার ওপর কালো দাগ পড়ে এবং পাতা পুরু হয়ে যায়। আক্রান্ত গাছ আকারে ছোট হয়।
প্রতিকার: ফরমালিন বা প্রোভেক্স দিয়ে মাটি ও বীজ শোধন করতে হবে।
লক্ষণ: চারা ফুলে ওঠে এবং খাটো হয়ে যায়। পেঁয়াজের চামড়া নরম ও ধূসর হয় এবং পচা গন্ধ পাওয়া যায়।
প্রতিকার: জমি তৈরির সময় বিঘা প্রতি ৩০০-৩২৫ কেজি মুরগির বিষ্ঠা এবং ৪-৪.৫ কেজি ফুরাডান ৫ জি প্রয়োগ করুন।
এটি পেঁয়াজের সবচেয়ে ক্ষতিকর পোকা। এরা পাতা থেকে রস চুষে খায়।
লক্ষণ: পাতা রুপালী-সাদা হয়ে যায় এবং পরে শুকিয়ে যায়।
দমন: আক্রমণ তীব্র হলে ইমিডাক্লোপ্রিড (১ মিলি/৩ লিটার পানি) অথবা অ্যাসিটামিপ্রিড (১ গ্রাম/৪ লিটার পানি) আঠা মিশিয়ে স্প্রে করুন।
লক্ষণ: মাছির শূককীট পেঁয়াজের কন্দের ভেতরে ঢুকে ক্ষতি করে। গাছ হলুদ হয়ে শুকিয়ে যায়।
দমন: জমি তৈরির সময় একরে ৩০০ কেজি নিমখোল বা ১০ শতকে ৬০০ গ্রাম ফোরেট ১০জি প্রয়োগ করুন।
লক্ষণ: এরা রাতের বেলা পাতার সবুজ অংশ এবং পরে পুরো পাতা খেয়ে ফুটো করে ফেলে।
দমন: ফেরোমোন ফাঁদ ব্যবহার করুন। আক্রমণ বেশি হলে নোভালিউরন (১ মিলি/লিটার) স্প্রে করুন।
লক্ষণ: পাতার দুই স্তরের মাঝে আঁকাবাঁকা নালীর মতো রেখা তৈরি করে।
দমন: আক্রান্ত পাতা তুলে নষ্ট করুন। কারটাপ ৫০% (১ গ্রাম/লিটার) বা নিমজাত কীটনাশক স্প্রে করুন।
পেঁয়াজ সংগ্রহের পর সংরক্ষণের সময় অনেক সময় পচন ধরে।
সুস্থ ও আঘাতমুক্ত পেঁয়াজ গুদামজাত করুন।
সংরক্ষণাগারে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন।
মাঝে মাঝে পচা পেঁয়াজ বেছে ফেলে দিন এবং উলট-পালট করে দিন।