Welcome to Mithu Seeds - মিঠু সিডস এ স্বাগতম

Seeds Banner
কোন সারের কি কাজ চলুন জেনে নেই

কোন সারের কি কাজ চলুন জেনে নেই

উদ্ভিদের পুষ্টি ও বৃদ্ধির জন্য নির্দিষ্ট কিছু কাজ করে। নিচে সহজভাবে প্রতিটি সারের কাজ দেওয়া হলো: ১. Urea (ইউরিয়া) প্রধান কাজ: এটি উদ্ভিদের নাইট্রোজেন (N) সরবরাহ করে। উপকারিতা: গাছকে দ্রুত বৃদ্ধি করতে এবং পাতা ঘন সবুজ করতে সাহায্য করে। এটি মূলত গাছের দৈহিক বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করা হয়। ২. DAP (ডিএপি - ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) প্রধান কাজ: এতে নাইট্রোজেন ও ফসফরাস (P) দুই-ই থাকে। উপকারিতা: এটি গাছের শিকড় শক্ত করতে এবং গাছকে দ্রুত বড় করতে সাহায্য করে। চারা অবস্থায় এই সার দিলে শিকড়ের কাঠামো মজবুত হয়। ৩. Potash/MOP (পটাশ) প্রধান কাজ: এটি উদ্ভিদের পটাশিয়াম (K) সরবরাহ করে। উপকারিতা: পটাশ গাছকে রোগবালাই ও খরা থেকে বাঁচায়। ফলন বাড়াতে, ফলের আকার বড় করতে এবং ফলের মিষ্টতা বৃদ্ধিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ। এটি গাছের কান্ড শক্ত করে। ৪. Gypsum (জিপসাম) প্রধান কাজ: এটি ক্যালসিয়াম ও সালফার (S) সরবরাহ করে। উপকারিতা: এটি মাটির গঠন উন্নত করে এবং লোনা ভাব কমাতে সাহায্য করে। দানাদার জাতীয় ফসল (যেমন: ধান, গম) ও তৈলবীজের (যেমন: সরিষা) ফলন বৃদ্ধিতে এটি কার্যকরী। ৫. TSP (টিএসপি - ট্রিপল সুপার ফসফেট) প্রধান কাজ: এটি উচ্চমাত্রার ফসফরাস (P) সমৃদ্ধ সার। উপকারিতা: এটি প্রধানত গাছের শেকড় গঠন এবং ফুল ও ফল ধরতে সাহায্য করে। এটি প্রয়োগ করলে ফসলের পরিপক্কতা দ্রুত আসে। সংক্ষেপে মনে রাখার টিপস: ইউরিয়া: পাতা ও বৃদ্ধি। ডিএপি ও টিএসপি: শিকড় ও ফুল-ফল। পটাশ: রোগ প্রতিরোধ ও ফলের গুণমান।
পেঁয়াজ আবাদে নিশ্চিত ফলনের স্প্রে সিডিউল

পেঁয়াজ আবাদে নিশ্চিত ফলনের স্প্রে সিডিউল

পেঁয়াজের আশানুরূপ ফলন পেতে থ্রিপস (পোকা) এবং পার্পল ব্লচ (ছত্রাক) নিয়ন্ত্রণ করা সবচেয়ে জরুরি। নিচে বয়স ভিত্তিক তিনটি ধাপের স্প্রে তালিকা দেওয়া হলো: ১ম স্প্রে: প্রাথমিক সুরক্ষা ও চারা গঠন সময়: চারা রোপণের ১৫–২০ দিন পর। উদ্দেশ্য: চারা অবস্থায় পোকা আক্রমণ ও প্রাথমিক ছত্রাক সংক্রমণ প্রতিরোধ। উপাদানের নাম ডোজ (প্রতি লিটার পানিতে) কাজ ইমিডাক্লোরপ্রিড (১৭.৮% SL) ১ মি.লি. থ্রিপস ও এফিড (শোষক পোকা) দমন। ম্যানকোজেব (৭৫% WP) ২ গ্রাম পাতা মরা ও পচন রোগ প্রতিরোধ। ২য় স্প্রে: মধ্যবর্তী বৃদ্ধি ও রোগ নিয়ন্ত্রণ সময়: চারা রোপণের ৩৫–৪০ দিন পর। উদ্দেশ্য: ডাউনি মিলডিউ এবং পাতার দাগ (Purple Blotch) নিয়ন্ত্রণ। উপাদানের নাম ডোজ (প্রতি লিটার পানিতে) কাজ মেটালাক্সিল + ম্যানকোজেব ২ গ্রাম মারাত্মক ছত্রাকজনিত রোগ দমন। সাইপারমেথ্রিন (প্রয়োজনে) ১ মি.লি. লেদা পোকা বা অন্য কোনো পোকার আক্রমণ ঠেকানো। ৩য় স্প্রে: কন্দ গঠন ও ফলন বৃদ্ধি সময়: চারা রোপণের ৬০–৬৫ দিন পর। উদ্দেশ্য: পেঁয়াজের আকার বড় করা, উজ্জ্বলতা বাড়ানো এবং সংরক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি। উপাদানের নাম ডোজ (প্রতি লিটার পানিতে) কাজ ন্যাটিভো (ট্রাইফ্লক্সিস্ট্রোবিন + টেবুকোনাজল) ১.৫ গ্রাম গাছকে সতেজ রাখে ও রোগমুক্ত ফলন নিশ্চিত করে। NPK + মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট + PGR অনুমোদিত মাত্রা অনুযায়ী পেঁয়াজ দ্রুত মোটা করে এবং ওজন বাড়ায়। সফল চাষের জন্য কিছু জরুরি টিপস: আঠা বা স্টিকার ব্যবহার: পেঁয়াজের পাতা পিচ্ছিল হওয়ায় স্প্রে করার সময় সাবান পানি বা আঠা (Sticker) মিশিয়ে নিলে ওষুধ পাতায় ভালোভাবে লেগে থাকে। রোদের সময়: কড়া রোদে স্প্রে না করে বিকেলের নরম আলোয় স্প্রে করা সবচেয়ে কার্যকর। সতর্কতা: স্প্রে করার সময় অবশ্যই মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করুন। কিছু বাণিজ্যিক ব্র্যান্ডের নাম নিচে দেওয়া হলো। আপনি আপনার নিকটস্থ ডিলার বা দোকান থেকে এগুলো সংগ্রহ করতে পারেন। ১ম স্প্রে-র জন্য (১৫–২০ দিন) উপাদান: ইমিডাক্লোরপ্রিড ১৭.৮% SL + ম্যানকোজেব ৭৫% WP ইমিডাক্লোরপ্রিড ব্র্যান্ডসমূহ: অ্যাডমায়ার (বায়ার ক্রপসায়েন্স) ইমিটাফ (সিঞ্জেন্টা বাংলাদেশ) টিডো (এসিআই ক্রপ কেয়ার) ম্যানকোজেব ব্র্যান্ডসমূহ: ডাইথেন এম-৪৫ (ইনতেফা/কর্ডোভা) ইন্দোফিল এম-৪৫ (অটোকন) পেনকোজেব (এসিআই) ২য় স্প্রে-র জন্য (৩৫–৪০ দিন) উপাদান: মেটালাক্সিল + ম্যানকোজেব এবং সাইপারমেথ্রিন মেটালাক্সিল + ম্যানকোজেব ব্র্যান্ডসমূহ: রিডোমিল গোল্ড (সিঞ্জেন্টা) — এটি সবচেয়ে জনপ্রিয়। ম্যাটারিল (এসিআই) মেলোডি ডুও (বায়ার) সাইপারমেথ্রিন ব্র্যান্ডসমূহ: রিপকর্ড (বাস্ফ/BASF) ফেনপেন (এসিআই) উস্তাদ (অটোকন) ৩য় স্প্রে-র জন্য (৬০–৬৫ দিন) উপাদান: ট্রাইফ্লক্সিস্ট্রোবিন + টেবুকোনাজল এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট/PGR ছত্রাকনাশক ব্র্যান্ড: ন্যাটিভো ৭২.৫ WG (বায়ার ক্রপসায়েন্স) — এটি কন্দ বড় করতে ও পচন রোধে দারুণ কাজ করে। NPK/মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ও PGR ব্র্যান্ডসমূহ: সলোবর বোরণ (স্কয়ার/এসিআই) - কন্দ ফেটে যাওয়া রোধে। ফ্লোরা (এসিআই) - গাছের বৃদ্ধির জন্য। লিটোসেন (এসিআই) - কন্দ গঠন ও ওজন বৃদ্ধির জন্য। মিরাকুলান - ভালো মানের PGR হিসেবে পরিচিত। বিশেষ পরামর্শ: পেঁয়াজের পাতার উপরের অংশ মোমের মতো মসৃণ থাকে, তাই ওষুধ যেন গড়িয়ে পড়ে না যায় সেজন্য অবশ্যই একটি ‘স্প্রে স্টিকার’ বা আঠা (যেমন: এসিআই স্টিক বা ডানস্টিক) প্রতিটি মিশ্রণের সাথে ব্যবহার করবেন।
৫০ দিন বয়সের পেঁয়াজের আগা হলুদ হওয়া ও শুকিয়ে যাওয়া: কারণ ও প্রতিকার

৫০ দিন বয়সের পেঁয়াজের আগা হলুদ হওয়া ও শুকিয়ে যাওয়া: কারণ ও প্রতিকার

পেঁয়াজ ক্ষেতে বিশেষ করে ৫০ দিন বয়সের আশেপাশে পাতার আগা হলুদ হওয়া এবং শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যাটি প্রায়ই দেখা যায়। সঠিক সময়ে ব্যবস্থা না নিলে ফলন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। ১. সম্ভাব্য সমস্যা ও কারণসমূহ পুষ্টির অভাব: মাটিতে নাইট্রোজেন এবং পটাশিয়ামের ($K$) ঘাটতি থাকলে পাতার আগা হলুদ হয়ে যায়। এছাড়া সালফারের অভাবে গাছ ফ্যাকাশে ও দুর্বল হয়ে পড়ে। পানির অব্যবস্থাপনা: মাটিতে রসের তীব্র অভাব হলে পাতা শুকিয়ে যায়। আবার অতিরিক্ত পানি জমে থাকলে শিকড় পচে পুষ্টি শোষণ বন্ধ হয়ে পাতা হলুদ হয়ে ঢলে পড়ে। ছত্রাকজনিত রোগ: পার্পল ব্লচ (Purple Blotch), ডাউনি মিলডিউ বা স্টেমফাইলিয়াম ব্লাইট রোগের কারণে পাতায় বেগুনি বা বাদামি দাগ পড়ে এবং আগা শুকিয়ে যায়। থ্রিপস (Thrips) পোকা: এটি পেঁয়াজের প্রধান শত্রু। এই পোকা পাতার রস চুষে নেয়, ফলে পাতায় সাদাটে বা রুপালি দাগ পড়ে এবং পাতা ক্রমশ শুকিয়ে যায়। ২. সমাধান ও করণীয় কৃষক ভাইদের জন্য কার্যকর পদক্ষেপগুলো নিচে আলোচনা করা হলো: ক. সার ব্যবস্থাপনা (৫০ দিনের পেঁয়াজের জন্য) গাছকে সতেজ ও শক্তিশালী করতে সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগ করুন: ইউরিয়া: ১০-১৫ কেজি/বিঘা (উপরি প্রয়োগ)। পটাশ (MOP): ৫-৭ কেজি/বিঘা। সালফার (গন্ধক): ২-৩ কেজি/বিঘা (যেমন: জিপসাম বা ৮০% সালফার গুড়ো)। খ. সেচ ও পানি নিষ্কাশন মাটির আর্দ্রতা বুঝে সপ্তাহে অন্তত ১-২ বার পরিমিত সেচ দিন। বৃষ্টি বা অতিরিক্ত সেচের পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য নালা পরিষ্কার রাখুন। গ. বালাইনাশক প্রয়োগ (ছত্রাক ও পোকা দমন) আক্রান্ত ক্ষেতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিন: ছত্রাক দমনে: ম্যানকোজেব (Mancozeb) ২ গ্রাম অথবা প্রোপিকোনাজল (Propiconazole) ১ মি.লি. প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ১০-১২ দিন অন্তর স্প্রে করুন। পোকা দমনে: থ্রিপস দমনের জন্য ইমিডাক্লোপ্রিড (Imidacloprid) গ্রুপভুক্ত কীটনাশক ০.৫ মি.লি. প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করুন। ৩. জরুরি পরামর্শ পাতায় ওষুধ স্প্রে করার সময় সাথে সামান্য ডিটারজেন্ট বা 'স্টিকার' মিশিয়ে দিলে ওষুধ পাতার সাথে ভালোভাবে লেগে থাকে এবং ভালো ফল দেয়। স্প্রে করার উপযুক্ত সময় হলো রৌদ্রোজ্জ্বল বিকেলে।
পেঁয়াজের পাতা হলুদ হওয়ার প্রধান কারণগুলো

পেঁয়াজের পাতা হলুদ হওয়ার প্রধান কারণগুলো

পেঁয়াজ গাছের পাতা হলুদ হয়ে যাওয়া চাষিদের জন্য বেশ চিন্তার বিষয়। এটি সাধারণত ভুল পরিচর্যা, পুষ্টির অভাব বা রোগের কারণে হয়ে থাকে। নিচে এর প্রধান কারণ ও প্রতিকারগুলো তুলে ধরা হলো: ১. সেচ ও আবহাওয়াজনিত কারণ অতিরিক্ত পানি: গোড়ায় পানি জমে থাকলে শিকড় পচে যায় (Root Rot), ফলে পাতা হলুদ হয়ে ঢলে পড়ে। পানির অভাব: মাটিতে রসের অভাব হলে গাছ পুষ্টি শোষণ করতে পারে না, ফলে আগা থেকে পাতা হলুদ হতে শুরু করে। তীব্র তাপমাত্রা: অতিরিক্ত গরম বা রোদেও পেঁয়াজ পাতা তামাটে বা হলুদ বর্ণ ধারণ করতে পারে। ২. পুষ্টির অভাব মাটিতে নির্দিষ্ট কিছু উপাদানের ঘাটতি থাকলে পাতা তার রঙ হারায়: নাইট্রোজেন (N): পুরো পাতা হালকা সবুজ থেকে হলুদ হয়ে যায়। সালফার (S): নতুন পাতাগুলো প্রথমে হলুদ হতে শুরু করে। পটাশিয়াম (K): পাতার কিনারা বা আগা পুড়ে যাওয়ার মতো হলুদ ও খয়েরি হয়ে যায়। ৩. রোগবালাই ও পোকা পার্পল ব্লচ (Purple Blotch): এটি একটি ছত্রাকজনিত রোগ। পাতায় বেগুনি দাগ পড়ে এবং ধীরে ধীরে পুরো পাতা হলুদ হয়ে শুকিয়ে যায়। থ্রিপস পোকা: খুব ছোট এই পোকাগুলো পাতার রস চুষে খায়, যার ফলে পাতায় সাদাটে-হলুদ ছোপ ছোপ দাগ পড়ে। ডাউনি মিলডিউ: বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকলে এই ছত্রাক আক্রমণ করে, ফলে পাতায় হলদেটে ও বেগুনী আস্তরণ পড়ে। ৪. মাটির গুণাগুণ অম্লীয় মাটি: মাটির pH মান ঠিক না থাকলে (পেঁয়াজের জন্য আদর্শ pH ৫.৫–৬.৫) গাছ মাটি থেকে সার গ্রহণ করতে পারে না। প্রতিকার ও করণীয় পেঁয়াজ ক্ষেত সুস্থ রাখতে আপনি এই পদক্ষেপগুলো নিতে পারেন: সমস্যা করণীয় পানি নিষ্কাশন ক্ষেতে যেন পানি জমে না থাকে সে ব্যবস্থা করুন এবং নিয়মিত পরিমিত সেচ দিন। সুষম সার অনুমোদিত মাত্রায় ইউরিয়া, টিএসপি, পটাশ এবং জিপসাম (সালফারের জন্য) সার ব্যবহার করুন। ছত্রাকনাশক রোগের আক্রমণ দেখা দিলে 'ম্যানকোজেব' বা 'প্রোপিকোনাজল' গ্রুপের ছত্রাকনাশক স্প্রে করা যেতে পারে। পোকা দমন থ্রিপস দমনের জন্য সাবান পানি বা প্রয়োজনে কীটনাশক ব্যবহার করুন।
পেঁয়াজের গোড়া পচা রোগ: কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার

পেঁয়াজের গোড়া পচা রোগ: কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার

পেঁয়াজের গোড়া পচা একটি মারাত্মক ছত্রাকজনিত রোগ, যা মূলত Fusarium oxysporum নামক ছত্রাকের আক্রমণে হয়ে থাকে। এই রোগ নিয়ন্ত্রণে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। ১. রোগের প্রধান লক্ষণসমূহ আক্রান্ত গাছ দেখে খুব সহজেই এই রোগ চেনা যায়: চারা ঢলে পড়া: ছত্রাকের আক্রমণে চারার গোড়া পচে যায় এবং চারা দ্রুত নেতিয়ে বা ঢলে পড়ে। পাতার পরিবর্তন: পাতা হলুদ হয়ে যায় এবং শুকিয়ে মরে যেতে থাকে। পানি ভেজা দাগ: পাতার গোড়ার দিকে পচন ধরে অথবা ভেজা দাগ দেখা যায়, ফলে একসময় গাছ ভেঙে পড়ে। সহজে উপড়ে আসা: আক্রান্ত গাছের শিকড় পচে যাওয়ায় মাটি থেকে টান দিলে খুব সহজেই গাছটি উঠে আসে। ২. দমন ও প্রতিকার পদ্ধতি এই রোগ দমনে জৈব, রাসায়নিক এবং সঠিক চাষাবাদ পদ্ধতির সমন্বয় করা প্রয়োজন। ক) জৈব পদ্ধতি ও জমি ব্যবস্থাপনা পানি নিষ্কাশন: জমিতে বা বেডে পানি জমতে দেওয়া যাবে না। উন্নত নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ট্রাইকো-কম্পোস্ট: জমি তৈরির সময় প্রতি শতাংশে ৭-১০ কেজি ট্রাইকো-কম্পোস্ট ব্যবহার করলে ছত্রাক আক্রমণ কম হয়। খ) বীজ শোধন (বপনের আগে) সুস্থ চারা নিশ্চিত করতে বীজ শোধন অত্যন্ত কার্যকর: প্রতি কেজি বীজের সাথে ২.৫ গ্রাম কাডিম ৫০ ডব্লিউপি (Kadim 50 WP) মিশিয়ে ভালোভাবে শোধন করে নিতে হবে। গ) রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ আক্রমণ দেখা দিলে বা প্রতিকূল আবহাওয়ায় (আর্দ্র ও উষ্ণ) নিচের ছত্রাকনাশকগুলো ব্যবহার করুন: ডাইথেন এম ৪৫ (Dithane M 45) অথবা রিডোমিল গোল্ড এমজেড (Ridomil Gold MZ)। আবহাওয়ার পরিস্থিতি বুঝে নির্দিষ্ট সময় অন্তর স্প্রে করতে হবে। ঘ) সমন্বিত ব্যবস্থাপনা পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ: আক্রান্ত গাছ দেখামাত্র তুলে জমি থেকে দূরে নিয়ে নষ্ট করে ফেলতে হবে। ফসল পর্যায়: একই জমিতে বারবার পেঁয়াজ চাষ না করে ফসলের পর্যায় অনুসরণ করা উচিত।
পেঁয়াজের প্রধান রোগবালাই ও প্রতিকার

পেঁয়াজের প্রধান রোগবালাই ও প্রতিকার

পেঁয়াজ চাষে বিভিন্ন প্রকার রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ একটি সাধারণ সমস্যা। ১. পার্পল ব্লচ বা ব্লাইট (Purple Blotch) এটি ছত্রাকজনিত একটি মারাত্মক রোগ। অতিরিক্ত শিশির ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এটি দ্রুত ছড়ায়। লক্ষণ: পাতায় প্রথমে ক্ষুদ্র বাদামী বা হলুদ দাগ পড়ে। পরে দাগগুলো বড় হয়ে বেগুনি বা কালো রঙ ধারণ করে এবং পাতা ওপর থেকে মরতে শুরু করে। প্রতিকার: * সুস্থ বীজ ব্যবহার ও আক্রান্ত অংশ পুড়িয়ে ফেলা। বীজ শোধনের জন্য প্রতি কেজি বীজে ২.৫ গ্রাম প্রোভেক্স বা রুভরাল মেশান। আক্রমণ দেখা দিলে রিডোমিল গোল্ড (২ গ্রাম/লিটার) ১০-১২ দিন পরপর ৩-৪ বার স্প্রে করুন। ২. বট্রাইটিস লিফ ব্লাইট (Botrytis Leaf Blight) লক্ষণ: পাতায় ছোট ছোট সাদা দাগ দেখা যায়, যা পরে একত্রিত হয়ে পুরো মাঠ পুড়ে যাওয়ার মতো দেখায়। প্রতিকার: শস্য পর্যায় (একই জমিতে বারবার পেঁয়াজ না করা) অনুসরণ করুন। আক্রান্ত গাছে ব্যভিস্টিন (১ গ্রাম/লিটার) ১০-১২ দিন পরপর ৩-৪ বার স্প্রে করুন। ৩. কান্ড বা কন্দ পচা (Stem/Bulb Rot) মাটিতে থাকা ছত্রাকের কারণে এই রোগ হয়। অধিক তাপ ও আর্দ্রতায় এটি বৃদ্ধি পায়। লক্ষণ: গাছ হাত দিয়ে টান দিলে সহজে উঠে আসে। আক্রান্ত স্থানে সরিষার দানার মতো বাদামী গুটি দেখা যায়। প্রতিকার: চারা রোপণের আগে ট্রাইকোডারমা বা প্রোভেক্স দিয়ে শোধন করুন। জমিতে পানি নিষ্কাশনের ভালো ব্যবস্থা রাখুন। ৪. পেঁয়াজের স্মাট (Smut) লক্ষণ: পাতার ওপর কালো দাগ পড়ে এবং পাতা পুরু হয়ে যায়। আক্রান্ত গাছ আকারে ছোট হয়। প্রতিকার: ফরমালিন বা প্রোভেক্স দিয়ে মাটি ও বীজ শোধন করতে হবে। ৫. কান্ড ও কন্দ কৃমি (Nematode) লক্ষণ: চারা ফুলে ওঠে এবং খাটো হয়ে যায়। পেঁয়াজের চামড়া নরম ও ধূসর হয় এবং পচা গন্ধ পাওয়া যায়। প্রতিকার: জমি তৈরির সময় বিঘা প্রতি ৩০০-৩২৫ কেজি মুরগির বিষ্ঠা এবং ৪-৪.৫ কেজি ফুরাডান ৫ জি প্রয়োগ করুন। পেঁয়াজের প্রধান ক্ষতিকারক পোকা ও দমন ১. থ্রিপস বা চোষী পোকা (Thrips) এটি পেঁয়াজের সবচেয়ে ক্ষতিকর পোকা। এরা পাতা থেকে রস চুষে খায়। লক্ষণ: পাতা রুপালী-সাদা হয়ে যায় এবং পরে শুকিয়ে যায়। দমন: আক্রমণ তীব্র হলে ইমিডাক্লোপ্রিড (১ মিলি/৩ লিটার পানি) অথবা অ্যাসিটামিপ্রিড (১ গ্রাম/৪ লিটার পানি) আঠা মিশিয়ে স্প্রে করুন। ২. পেঁয়াজের মাছি (Onion Maggot) লক্ষণ: মাছির শূককীট পেঁয়াজের কন্দের ভেতরে ঢুকে ক্ষতি করে। গাছ হলুদ হয়ে শুকিয়ে যায়। দমন: জমি তৈরির সময় একরে ৩০০ কেজি নিমখোল বা ১০ শতকে ৬০০ গ্রাম ফোরেট ১০জি প্রয়োগ করুন। ৩. ল্যাদা পোকা (Armyworm) লক্ষণ: এরা রাতের বেলা পাতার সবুজ অংশ এবং পরে পুরো পাতা খেয়ে ফুটো করে ফেলে। দমন: ফেরোমোন ফাঁদ ব্যবহার করুন। আক্রমণ বেশি হলে নোভালিউরন (১ মিলি/লিটার) স্প্রে করুন। ৪. নালী পোকা বা ম্যাপকাটা পোকা (Leaf Miner) লক্ষণ: পাতার দুই স্তরের মাঝে আঁকাবাঁকা নালীর মতো রেখা তৈরি করে। দমন: আক্রান্ত পাতা তুলে নষ্ট করুন। কারটাপ ৫০% (১ গ্রাম/লিটার) বা নিমজাত কীটনাশক স্প্রে করুন। গুদামজাত রোগ থেকে সুরক্ষায় করণীয়: পেঁয়াজ সংগ্রহের পর সংরক্ষণের সময় অনেক সময় পচন ধরে। সুস্থ ও আঘাতমুক্ত পেঁয়াজ গুদামজাত করুন। সংরক্ষণাগারে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন। মাঝে মাঝে পচা পেঁয়াজ বেছে ফেলে দিন এবং উলট-পালট করে দিন।
পেঁয়াজ আবাদের পূর্ণাঙ্গ সার ও জমি ব্যবস্থাপনা গাইডলাইন

পেঁয়াজ আবাদের পূর্ণাঙ্গ সার ও জমি ব্যবস্থাপনা গাইডলাইন

লক্ষ্য: বড় কন্দ, রোগমুক্ত গাছ এবং সর্বোচ্চ ফলন নিশ্চিত করা। ১. জমি ও বেড প্রস্তুতি চাষ: ৩–৪টি চাষ দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। পদ্ধতি: পানি নিষ্কাশনের জন্য উঁচু বেড পদ্ধতিতে চাষ করা সবচেয়ে ভালো। দূরত্ব: সারি থেকে সারি ১৫–২০ সেমি এবং গাছ থেকে গাছ ৮–১০ সেমি বজায় রাখুন। ২. সার প্রয়োগের সঠিক মাত্রা (ডোজ) সারের নাম শতক প্রতি পরিমাণ বিঘা প্রতি পরিমাণ (৩৩ শতক) পচা গোবর/কম্পোস্ট ২৫–৩০ কেজি ৫০০–৬০০ কেজি ইউরিয়া ১.০–১.২ কেজি ২০–২৪ কেজি টিএসপি (TSP) ৫০০–৬০০ গ্রাম ১০–১২ কেজি এমওপি (পটাশ) ৫০০–৬০০ গ্রাম ১০–১২ কেজি জিপসাম ৩০০ গ্রাম ৬–৭ কেজি বোরন ৮–১০ গ্রাম ১৫০–১৮০ গ্রাম জিঙ্ক সালফেট ৪০–৫০ গ্রাম ৮০০–৯০০ গ্রাম বিশেষ দ্রষ্টব্য: বোরন ও পটাশের সঠিক সমন্বয় পেঁয়াজের কন্দ বড় করে এবং পচন রোধ করে। ৩. সার প্রয়োগের সময়সূচী (শিডিউল) ধাপ ১: বেসাল ডোজ (জমি তৈরির সময়) রোপণের আগে নিচের সারগুলো একসাথে মাটিতে মিশিয়ে দিন: সম্পূর্ণ গোবর, টিএসপি, জিপসাম, বোরন ও জিঙ্ক। এমওপি (পটাশ) সারের অর্ধেক অংশ। ধাপ ২: ১ম কিস্তি (উপরি প্রয়োগ) সময়: রোপণের ২০–২২ দিন পর। সার: মোট ইউরিয়ার অর্ধেক এবং অবশিষ্ট পটাশের অর্ধেক। কাজ: সার দেওয়ার পর নিড়ানি দিয়ে হালকা সেচ দিন। ধাপ ৩: ২য় কিস্তি (উপরি প্রয়োগ) সময়: রোপণের ৪০–৪৫ দিন পর। সার: বাকি থাকা সম্পূর্ণ ইউরিয়া ও পটাশ। কাজ: এই সময়ে সার দিলে কন্দ দ্রুত মোটা ও পুষ্ট হয়। ৪. ঘাটতি লক্ষণ ও দ্রুত সমাধান পাতা হলুদ হওয়া: নাইট্রোজেন ঘাটতি (ইউরিয়া ২০০-২৫০ গ্রাম/শতক প্রয়োগ করুন)। পাতার ডগা শুকানো: পটাশ ঘাটতি (MOP ২০০ গ্রাম/শতক প্রয়োগ করুন)। কন্দ ছোট থাকা: বোরন/জিঙ্ক ঘাটতি (বোরিক অ্যাসিড ১ গ্রাম/লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করুন)। পাতা চিকন হওয়া: সালফার ঘাটতি (জিপসাম ১৫০-২০০ গ্রাম/শতক প্রয়োগ করুন)। ৫. সেচ ও রোগ ব্যবস্থাপনা সেচ: কন্দ গঠনের সময় মাটিতে রস থাকা জরুরি। তবে সংগ্রহের ১৫–২০ দিন আগে সেচ বন্ধ করে দিন যাতে পেঁয়াজ শক্ত হয়। রোগ দমন: পার্পল ব্লচ বা ডাউনি মিলডিউ দমনে ম্যানকোজেব (২.৫ গ্রাম/লিটার) অথবা মেটাল্যাক্সিল + ম্যানকোজেব ১০ দিন পর পর স্প্রে করুন। আগাছা: রোপণের ১৫ ও ৩০ দিন পর অবশ্যই নিড়ানি দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করুন। বড় কন্দ পেতে "গোল্ডেন টিপস" ইউরিয়া একবারে নয়: ইউরিয়া সার সবসময় ২-৩ কিস্তিতে ভাগ করে দিন। পটাশের ব্যবহার: পটাশ দুই কিস্তিতে দিলে পেঁয়াজের উজ্জ্বলতা ও ওজন বাড়ে। বোরন ও জিঙ্ক: এই দুটি অনুখাদ্য পেঁয়াজ ফেটে যাওয়া রোধ করে এবং কন্দ বড় করে। নিষ্কাশন: জমিতে কোনোভাবেই পানি জমতে দেবেন না; বেড শুকনা ও ঝুরঝুরে রাখুন।
পেঁয়াজের আকার বড় করার জন্য পটাশের পাশাপাশি যে অনুখাদ্য ব্যবহার করা প্রয়োজন

পেঁয়াজের আকার বড় করার জন্য পটাশের পাশাপাশি যে অনুখাদ্য ব্যবহার করা প্রয়োজন

পেঁয়াজের কন্দ বা বাল্ব বড়, ওজনদার এবং উন্নত মানের করার জন্য পটাশ সারের পাশাপাশি কিছু নির্দিষ্ট অনুখাদ্য (Micronutrients) এবং হরমোন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে সেগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো: ১. বোরন (Boron) পেঁয়াজের আকার বৃদ্ধির জন্য বোরন সবচেয়ে জরুরি অনুখাদ্য। কাজ: এটি কোষ বিভাজনে সাহায্য করে এবং গাছের তৈরি খাবার পাতা থেকে শিকড়ে (পেঁয়াজে) পাঠাতে সাহায্য করে। বোরনের অভাবে পেঁয়াজ ফেটে যেতে পারে। প্রয়োগ: প্রতি লিটার পানিতে ১-১.৫ গ্রাম সলোবর বোরন মিশিয়ে রোপণের ৩০ ও ৫০ দিন পর স্প্রে করুন। ২. সালফার (Sulphur) পেঁয়াজ যেহেতু একটি ঝাঁঝালো ফসল, তাই সালফার এর জন্য অপরিহার্য। কাজ: এটি পেঁয়াজের ঝাঁজ বাড়ায়, রঙ সুন্দর করে এবং খোসা শক্ত করে। এটি প্রাকৃতিক ছত্রাকনাশক হিসেবেও কাজ করে। প্রয়োগ: জমি তৈরির সময় জিপসাম সার হিসেবে দিন। এছাড়া প্রয়োজনে ৮০% সালফার (যেমন- থিওভিট) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম মিশিয়ে স্প্রে করতে পারেন। ৩. জিংক বা দস্তা (Zinc) কাজ: জিংক গাছের হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে এবং গাছকে খাটো হওয়া থেকে রক্ষা করে। এটি গাছের বিপাকীয় কাজ সচল রাখে, ফলে কন্দ দ্রুত বড় হয়। প্রয়োগ: জমি তৈরির সময় দানাদার জিংক দিতে পারেন অথবা কিলেটেড জিংক (যেমন- লিবরেল জিংক) ০.৫ গ্রাম/লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে পারেন। ৪. ক্যালসিয়াম (Calcium) কাজ: ক্যালসিয়াম পেঁয়াজের কোষ প্রাচীর শক্ত করে। এতে পেঁয়াজ দীর্ঘ সময় গুদামজাত করে রাখা যায় (পচন ধরে না)। প্রয়োগ: ক্যালসিয়াম ও বোরন মিশ্রিত সার (যেমন- ক্যালবো) স্প্রে করা খুবই ফলদায়ক। কন্দ দ্রুত বড় করার জন্য বিশেষ টিপস (পিজিআর) যদি গাছের লতা অনেক বড় হয়ে যায় কিন্তু পেঁয়াজ বড় না হয়, তবে PGR (Plant Growth Regulator) ব্যবহার করা যেতে পারে: প্যাক্লোবিউট্রাজল (Paclobutrazol): এটি লতার বৃদ্ধি কমিয়ে সব শক্তি পেঁয়াজের কন্দ বড় করতে ব্যয় করে। এটি পেঁয়াজ সংগ্রহের ২০-৩০ দিন আগে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। চমৎকার ফল পেতে: পটাশিয়াম সালফেট (০-০-৫০) ৫ গ্রাম + সলোবর বোরন ১ গ্রাম একসাথে ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করলে পেঁয়াজ দ্রুত মোটা ও উজ্জ্বল হয়। মনে রাখবেন: অনুখাদ্যগুলো সবসময় বিকেলে স্প্রে করবেন। স্প্রে করার সময় জমিতে পর্যাপ্ত রস (আর্দ্রতা) থাকা জরুরি। শুকনো জমিতে স্প্রে করলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যায় না।
পেঁয়াজের জমিতে মুথা ও দুর্বা ঘাস দমনের কার্যকর উপায়

পেঁয়াজের জমিতে মুথা ও দুর্বা ঘাস দমনের কার্যকর উপায়

পেঁয়াজ চাষে আগাছা একটি বড় বাধা। বিশেষ করে মুথা ও দুর্বা ঘাস মাটির পুষ্টি শোষন করে পেঁয়াজের বৃদ্ধি কমিয়ে দেয়। নিচে এগুলো দমনের ৩টি প্রধান পদ্ধতি দেওয়া হলো: ১. যান্ত্রিক ও প্রাকৃতিক পদ্ধতি হাতে নিড়ানি দেওয়া: আগাছা ছোট থাকতেই হাত দিয়ে বা নিড়ানি দিয়ে শিকড়সহ তুলে ফেলতে হবে। বীজ হওয়ার আগে পরিষ্কার করলে পরবর্তী মৌসুমে আগাছা কম হয়। গভীর চাষ: জমি তৈরির সময় লাঙল বা রোটাভেটর দিয়ে গভীরভাবে চাষ দিন। এতে মুথা ঘাসের 'গুটি' এবং দুর্বার শিকড় উপরে উঠে আসে এবং রোদে শুকিয়ে মারা যায়। মালচিং: চারা রোপণের পর সারির মাঝখানে শুকনো খড় বা নাড়া দিয়ে ঢেকে দিলে আগাছা জন্মানোর সুযোগ পায় না। ২. রাসায়নিক পদ্ধতি (আগাছানাশক ব্যবহার) রাসায়নিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সময় এবং মাত্রা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ক) চারা গজানোর আগে (Pre-emergence): পেনডিমিথালিন ৩০% ইসি (যেমন: পেনডাম বা পান্ডা): * মাত্রা: প্রতি ১০ লিটার পানিতে ৩৩ মি.লি.। সময়: বীজ বপন বা চারা রোপণের ৩ দিনের মধ্যে (আগাছা গজানোর আগে) ভেজা মাটিতে স্প্রে করতে হবে। খ) চারা গজানোর পর (Post-emergence): কিউহ্যালোফপ ৫% ইসি (যেমন: কুইজ বা টারগা সুপার): মাত্রা: প্রতি ১০ লিটার পানিতে ২০-২৫ মি.লি.। সময়: পেঁয়াজ চারা বের হওয়ার ১৫-২০ দিন পর যখন আগাছা ২-৩ পাতা বিশিষ্ট হয়। এটি ঘাস জাতীয় আগাছা (যেমন: দুর্বা) দমনে খুব কার্যকর। গ্লাইফোসেট ৪৮% এসএল: এটি অত্যন্ত শক্তিশালী। পেঁয়াজ গাছের ফাঁকে শুধু দুর্বা ঘাসের ওপর 'স্পট স্প্রে' করা যেতে পারে। সতর্কতা: এটি পেঁয়াজ গাছের গায়ে লাগলে গাছ মারা যাবে। ৩. জৈবিক ও ঘরোয়া পদ্ধতি জৈব মালচিং: কচুরিপানা বা খড় দিয়ে জমি ঢেকে রাখলে আগাছার অঙ্কুরোদগম কমে যায়। ঘরোয়া স্প্রে: খুব সীমিত পরিসরে ভিনেগার বা লবণ মিশ্রিত পানি শুধুমাত্র আগাছার গোড়ায় স্প্রে করা যেতে পারে, তবে বড় জমিতে এটি ব্যয়বহুল। বিশেষ সতর্কতা ও পরামর্শ নির্দেশিকা অনুসরণ: যেকোনো আগাছানাশক ব্যবহারের আগে প্যাকেটের গায়ে লেখা নিয়ম ও মাত্রা ভালোভাবে পড়ে নিন। আবহাওয়া: স্প্রে করার সময় আকাশ পরিষ্কার থাকতে হবে। বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে স্প্রে করবেন না। সতর্ক স্প্রে: রাসায়নিক ব্যবহারের সময় খেয়াল রাখবেন যেন স্প্রে করা ওষুধ সরাসরি পেঁয়াজের কচি পাতার ওপর না পড়ে (নির্বাচনী আগাছানাশক বাদে)। নিরাপত্তা: স্প্রে করার সময় অবশ্যই মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করুন।
পেঁয়াজ আবাদে পটাশ সার কেন জরুরি?

পেঁয়াজ আবাদে পটাশ সার কেন জরুরি?

পেঁয়াজ একটি পুষ্টি সংবেদনশীল ফসল। এর সঠিক বৃদ্ধি এবং উন্নত মানের ফলন নিশ্চিত করতে পটাশ (MOP বা Potash) সার অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। নিচে এর প্রধান কারণগুলো তুলে ধরা হলো: ১️) গাছের গঠন ও সতেজতা বৃদ্ধি পটাশ পাতার ক্লোরোফিল রক্ষা করে পাতাকে সতেজ ও গাঢ় সবুজ রাখে। এটি গাছের কাঠামো শক্ত করে, ফলে গাছ সহজে ঢলে পড়ে না বা ভেঙে যায় না। ২️) কন্দ বা বাল্ব (Onion Bulb) গঠন ও মান উন্নয়ন পেঁয়াজের আকার বড়, সুডৌল ও আকর্ষণীয় করতে পটাশ সরাসরি কাজ করে। এটি পেঁয়াজকে শক্ত ও ভারী করে, যা বাজারের চাহিদা বাড়িয়ে দেয়। ৩️) রোগ ও প্রতিকূলতা প্রতিরোধ ক্ষমতা পটাশ গাছকে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়। এটি খরা, অতিরিক্ত ঠান্ডা বা কুয়াশার মতো প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা সহ্য করার ক্ষমতা বাড়ায়। ৪️) শিকড়ের বিকাশ ও পুষ্টি শোষণ শক্তিশালী শিকড় গঠনে পটাশ সাহায্য করে। শিকড় ভালো থাকলে গাছ মাটি থেকে পানি ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান (যেমন- নাইট্রোজেন ও ফসফরাস) দ্রুত শোষণ করতে পারে। ৫️) সংরক্ষণ ক্ষমতা ও স্বাদ বৃদ্ধি পটাশ ব্যবহারে পেঁয়াজের স্বাদ ও ঝাঁজ ঠিক থাকে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, পর্যাপ্ত পটাশ দেওয়া পেঁয়াজ ঘরে রাখলে সহজে পচে না এবং দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা যায়। পটাশ ব্যবহারের বিশেষ টিপস: সুষম প্রয়োগ: ভালো ফলন পেতে পটাশ সার সবসময় নাইট্রোজেন (ইউরিয়া) ও ফসফরাস (টিএসপি/ডিএপি) সারের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োগ করুন। পরিমিত মাত্রা: মনে রাখবেন, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পটাশ দিলে লতা বেশি বেড়ে যেতে পারে এবং মূল পেঁয়াজের বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। তাই মাটির গুণাগুণ বুঝে সঠিক মাত্রায় ব্যবহার করুন। প্রয়োগের সময়: জমি তৈরির সময় অর্ধেক এবং বাকি অর্ধেক কিস্তি অনুযায়ী (চারা রোপণের ২৫-৩০ দিন পর) উপরি প্রয়োগ করা উত্তম। বিশেষ কথাঃ পেঁয়াজের আকার বড় করার জন্য পটাশের পাশাপাশি আর কোন অনুখাদ্য ব্যবহার করা প্রয়োজন
পেঁয়াজের রোগ ও পোকা দমন: পূর্ণাঙ্গ স্প্রে শিডিউল

পেঁয়াজের রোগ ও পোকা দমন: পূর্ণাঙ্গ স্প্রে শিডিউল

লক্ষ্য: থ্রিপস, ডাউনি মিলডিউ ও পার্পল ব্লচ নিয়ন্ত্রণ করে ফলন বৃদ্ধি করা। ধাপ-১: রোপণের ১০–১২ দিন পর উদ্দেশ্য: আগাম পোকা ও ছত্রাক প্রতিরোধ। কীটনাশক (থ্রিপস/জাব পোকা): ইমিডাক্লোপ্রিড ১৭.৮ SL (০.৩ মি.লি./লিটার) অথবা থায়ামেথক্সাম ২৫ WG (০.২ গ্রাম/লিটার)। ছত্রাকনাশক: ম্যানকোজেব ৭৫ WP (২ গ্রাম/লিটার)। টিপস: এই দুটি ওষুধ একসাথে মিশিয়ে স্প্রে করা যাবে। ধাপ-২: রোপণের ২০–২৫ দিন পর উদ্দেশ্য: থ্রিপস পোকা এবং পাতার দাগ রোগ দমন। কীটনাশক (থ্রিপস): স্পিনোসাড ৪৫ SC (০.৩ মি.লি./লিটার) অথবা অ্যাবামেকটিন ১.৮ EC (০.৫ মি.লি./লিটার)। ছত্রাকনাশক (পার্পল ব্লচ): প্রপিকোনাজল ২৫ EC (০.৫ মি.লি./লিটার)। ধাপ-৩: রোপণের ৩০–৩৫ দিন পর উদ্দেশ্য: ডাউনি মিলডিউ ও থ্রিপস পোকা নিয়ন্ত্রণ (ঠান্ডা ও কুয়াশায় বিশেষ জরুরি)। ছত্রাকনাশক (ডাউনি মিলডিউ): মেটালাক্সিল + ম্যানকোজেব (২ গ্রাম/লিটার)। কীটনাশক (থ্রিপস): ল্যাম্বডা সাইহ্যালোথ্রিন ২.৫ EC (১ মি.লি./লিটার) — থ্রিপসের আক্রমণ বেশি হলে। ধাপ-৪: রোপণের ৪০–৪৫ দিন পর উদ্দেশ্য: পেঁয়াজের কন্দ (Bulb) গঠন সুরক্ষা। কীটনাশক (থ্রিপস/পাতা খেকো): এসিটামিপ্রিড ২০ SP (০.২৫ গ্রাম/লিটার)। ছত্রাকনাশক: হেক্সাকোনাজল ৫ EC (১ মি.লি./লিটার)। ধাপ-৫: রোপণের ৫০–৫৫ দিন পর (শেষ পর্যায়) উদ্দেশ্য: কন্দ বড় হওয়ার সময় শেষ পর্যায়ের রোগ নিয়ন্ত্রণ। ছত্রাকনাশক (পার্পল ব্লচ/স্টেমফাইলিয়াম): কারবেনডাজিম ৫০ WP (১ গ্রাম/লিটার) অথবা আজোক্সিস্ট্রোবিন ২৩ SC (১ মি.লি./লিটার)। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা (চাষিদের জন্য) সময়: সবসময় রোদ পড়ার আগে (সকালে) অথবা রোদের তীব্রতা কমলে (বিকেলে) স্প্রে করুন। পরিবর্তন: একই গ্রুপের কীটনাশক বারবার ব্যবহার করবেন না, এতে পোকার প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়। ওষুধ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করুন। পদ্ধতি: থ্রিপস পোকা পাতার ভাঁজে লুকিয়ে থাকে, তাই স্প্রে করার সময় পাতার ভেতরের দিকে ভালোভাবে ওষুধ পৌঁছানো নিশ্চিত করুন। সেচ: জমিতে কোনোভাবেই পানি জমতে দেবেন না, এটি পচন রোগের মূল কারণ। নিরাপদ কাল: ফসল সংগ্রহের কমপক্ষে ১০-১২ দিন আগে সব ধরনের রাসায়নিক স্প্রে বন্ধ রাখুন। এই শিডিউলটি মেনে চললে পেঁয়াজের কন্দ বড় ও পুষ্ট হবে এবং আপনি সর্বোচ্চ ফলন আশা করতে পারেন।
পেঁয়াজের আগা ভাঙা বা শুকানো রোগ: কারণ ও প্রতিকার

পেঁয়াজের আগা ভাঙা বা শুকানো রোগ: কারণ ও প্রতিকার

পেঁয়াজ চাষে আগা ভাঙা (Tip Burn) বা আগা শুকানো একটি মারাত্মক সমস্যা। এতে পাতার আগা প্রথমে হলুদ হয়ে যায়, পরে শুকিয়ে ভেঙে পড়ে। ফলে পেঁয়াজের আকার ছোট হয় এবং ফলন অনেকাংশে কমে যায়। কেন এই সমস্যা হয়? (প্রধান কারণসমূহ) ১. পুষ্টির অভাব: মাটিতে বিশেষ করে পটাশ, সালফার, জিংক ও বোরনের ঘাটতি থাকলে এই সমস্যা দেখা দেয়। ২. অনিয়মিত সেচ: জমি অতিরিক্ত শুকিয়ে যাওয়া অথবা হঠাৎ করে অতিরিক্ত পানি দেওয়ার ফলে গাছ শক (Shock) পায়। ৩. ছত্রাকের আক্রমণ: কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় Alternaria বা Stemphylium জাতীয় ছত্রাকের কারণে পাতায় মড়ক ধরে। ৪. অতিরিক্ত নাইট্রোজেন: মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়া সার ব্যবহার করলে পাতা নরম হয়ে যায় এবং সহজেই ভেঙে পড়ে। ৫. আবহাওয়ার প্রভাব: শীতের তীব্রতা, ঘন কুয়াশা এবং শুষ্ক ঠান্ডা বাতাস এই সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। ৬. ঘন করে রোপণ: গাছের মধ্যে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করতে না পারলে রোগ দ্রুত ছড়ায়। কার্যকর প্রতিকার ও ব্যবস্থাপনা পেঁয়াজের ফলন ঠিক রাখতে নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করুন: সুষম সার ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনা জমি তৈরির সময় পর্যাপ্ত পটাশ (MoP) ও জিপসাম (সালফার) প্রয়োগ করুন। পাতা সবুজ ও সতেজ রাখতে প্রতি লিটার পানিতে ১-২ গ্রাম পটাশিয়াম সালফেট মিশিয়ে স্প্রে করুন। বোরনের অভাব দূর করতে লিটার প্রতি ১ গ্রাম বোরিক এসিড ১৫-২০ দিন অন্তর স্প্রে করা ভালো। সঠিক সেচ পদ্ধতি মাটি ফেটে যাওয়ার আগেই নিয়মিত হালকা সেচ দিন। জমিতে পানি জমতে দেবেন না; নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভালো রাখুন। অতিরিক্ত রোদে বা প্রচণ্ড খরায় সেচের ব্যবধান কমিয়ে আনুন। রোগ দমন (ছত্রাকনাশক) যদি আক্রমণ ছত্রাকজনিত মনে হয়, তবে নিচের যেকোনো একটি ছত্রাকনাশক ব্যবহার করুন: ম্যানকোজেব (যেমন: ডাইথেন এম-৪৫) অথবা ক্লোরোথালোনিল ২ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করুন। ৭-১০ দিন পরপর ২-৩ বার স্প্রে করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। জৈব ও প্রাকৃতিক প্রতিকার আক্রান্ত পাতাগুলো সাবধানে তুলে ধ্বংস করে ফেলুন। রোগ প্রতিরোধে ৭-১০ দিন পরপর একবার নিম তেল স্প্রে করতে পারেন। চাষিদের জন্য বিশেষ পরামর্শ (Tips) দূরত্ব বজায় রাখুন: চারা রোপণের সময় সারি থেকে সারির নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখুন যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে। ইউরিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখুন: শুধু ইউরিয়া সারের ওপর নির্ভর না করে সুষম সার দিন। কুয়াশা থেকে সুরক্ষা: খুব ভোরে বা কুয়াশা থাকা অবস্থায় গাছে স্পর্শ না করাই ভালো। আগাছা পরিষ্কার: জমি সবসময় আগাছামুক্ত রাখুন।
ইন্ডিয়ান সুখ সাগর পেঁয়াজ চাষের সঠিক নিয়ম

ইন্ডিয়ান সুখ সাগর পেঁয়াজ চাষের সঠিক নিয়ম

প্রথমে চারা তৈরি করতে হবে। চারা তৈরি করার জন্য কি কি করবেন চলুন জেনে নিইঃ প্রথমে জমি নির্বাচন করুন যেখানে চারা তৈরি করবেন। সুখ সাগর পেঁয়াজ চাষের জন্য বেলে দোয়াস,পলি দোয়াস ইত্যাদি মাটি সবচেয়ে বেশি উপযোগী। ১ কেজি পেঁয়াজের দানাতে চারা তৈরির জন্য ৪ শতক জমির প্রয়োজন। বেশি নিলে আরও ভাল হয়। এখন জেনে নিই কিভাবে চারা জন্য জমি প্রস্তুত করবেনঃ প্রথমে আপনি ৩৩ শতক জমিতে ৫-৬ কেজি ইউরিয়া সার ছিটিয়ে সেচ দিবেন। এর ফলে জমিতে লুকিয়ে থাকা আগাছা মাটি থেকে উপরে বের হয়ে আসবে। এরপর আপনি জাহামা ঔষধ দিয়ে আগাছা পুড়িয়ে বা পচিয়ে ফেলবেন। তারপর জমি খুব ভাল করে ২-৩ টি চাষ দিয়ে মাটি ছোট ছোট ঝুর ঝুরে করে সমান করে নিন। শেষ চাষে আপনি ৪ শতক জমির জন্য ২ কেজি টি এস পি, ১ কেজি ৫০০ গ্রাম এম ও পি (পটাশ), ৫০০ গ্রাম ইউরিয়া, নাইট্রো ৫০০ml, ২০০ গ্রাম কার্বোটাফ ৫ জি, ৫০০ গ্রাম রুটোন এবং ৬০ গ্রাম বোরন মিশিয়ে মাটি প্রস্তুত করে নিন। মাটির গুনাগুন ভেদে সারের পরিমাণ কম বেশি হতে পারে। বেডের মাফ প্রস্থ ৩ হাত এবং দৈর্ঘ্য ৪০- ৫০ হাত দিবেন। ২ বেডের মাঝখানে ১ ফুট ফাঁকা রাখতে হবে। এই ফাঁকা জায়গাতে আপনি চলাচল করতে পারবেন এবং সেচ দিতে পারবেন। বেড অবশ্যই কিছুতা ঢালু করতে হবে। যাহাতে বৃষ্টির পানি বা সেচের পানি জমে না থাকে।  এখন সুখ সাগর পেঁয়াজের বীজ বা দানা ছিটানোর সময়ঃ পেঁয়াজের দানা ২ টি পদ্ধতিতে ছিটানো যায়। ১) শুকনা পেঁয়াজের দানা বেডের শুকনা মাটিতে ছিটিয়ে দেওয়া। এরপর পর ঝরনা দিয়ে বেডের উপর বা বেডের মাঝখানে নালাতে ধালাও ভাবে সেচ দিতে হবে।  ২) শুকনা পেঁয়াজের দানা ১২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। তারপর পানি ঝরিয়ে নিতে হয়। এরপর বেডের শুকনা মাটিতে ছিটিয়ে দিতে হবে। এরপর পর ঝরনা দিয়ে বেডের উপর সেচ দিতে হবে। ( যদি ঢালায় সেচ দেন তাহলে ৫০% দানা পচে যাবে ফলে জারমিনেশন কম হবে) পেঁয়াজের দানা ছিটানোর আগে শোধন করে নিতে পারেন । ১ কেজি সুখ সাগর পেঁয়াজের দানার সাথে ৩৫ গ্রাম মেনসার ( মেঙ্কোজেব ও কারবেন্ডাজিম) ভাল করে মিশাতে হবে এবং হালকা পানি দিয়ে ভাল করে মাখিয়ে নিন। তারপর পেঁয়াজের দানা কিছুক্ষুন রেখে দিয়ে ঝর ঝরে করে নিতে হবে। মেনসার দিলে বর্ষার পানি বা মাটিতে লুকিয়ে থাকা ছত্রাক বীজ সহজে নষ্ট করতে পারে না।( মাটি শোধন না করলে ছত্রাকের কারণে জারমিনেশন কম হবে) যদি ঝরনা দিয়ে সেচ দিতে চান তাহলে পেঁয়াজের দানা ছিটানোর পর বেডের উপর খড় বা বিচালি বিছিয়ে দিয়ে পারেন। ভিডিও দেখুন পেঁয়াজের দানা ছিটানো পদ্ধতি পেঁয়াজের চারা যত্নঃ দানা বেডে ছিটানোর পর ১০ থেকে ১৫ দিন পর আগাছানাশক স্প্রে করতে হবে। আগাছানাশক হিসাবে এক্টিভার, অক্সিফ্লোর, অক্সি গোল্ড, হুইপ সুপার, সনেট, টাইজালো সুপার ইত্যাদি আগাছা অনুযায়ী স্প্রে করতে হবে। আগাছানাশক স্প্রে করার ৫-৬ দিন পর চিলেটেড, রিডোমিল গোল্ড এবং যেকোন কীটনাশক একসাথে মিশিয়ে স্প্রে করবেন। চারার বয়স ২১ দিন হলে ১ম সার প্রয়োগ করতে হবে। ৩৩ শতক জমির জন্য ইউরিয়া ১৩ কেজি, দস্তা ৪ কেজি, ডি এ পি ২০ কেজি সার দিতে হবে। চারার বয়স যখন ৩০ দিন হবে তখন ২য় সার প্রয়োগ করতে হবে। টি এস পি ২০ কেজি, ইউরিয়া ২০ কেজি, ম্যাগমা প্লাস ৪ কেজি দিতে হবে। চারার বয়স যখন ৪০ দিন হবে তখন চারা মোটা করার জন্য ইউরিয়া ২০ কেজি, দস্তা ৫ কেজি সার দিতে হবে। ফলে চারা মোটা হতে শুরু করবে। চারার বয়স যখন ৪৫-৫০ দিন বয়স হবে ঠিক তখন আবহাওয়া বুঝে লাগানোর ৭ দিনের মধ্যে বৃষ্টি , শৈত্যপ্রবাহ, ঘন কুয়াশা না হয় সেদিকে খেয়াল করে অন্য জমিতে রোপণ করে দিবেন। "পরিষ্কার আকাশ এবং ঝলমলে রোদে পেঁয়াজের চারা লাগালে চারার বৃদ্ধিতে সহায়ক হয় এবং কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে না। চারা রোপণ পদ্ধতিঃ জমি তৈরিঃ প্রথমে আপনি জমিতে বিঘা প্রতি বা ৩৩ শতক জমিতে ৫-৬ কেজি ইউরিয়া সার ছিটিয়ে সেচ দিবেন। এর ফলে জমিতে লুকিয়ে থাকা আগাছা মাটি থেকে উপরে বের হয়ে আসবে। এরপর আপনি জাহামা দিয়ে আগাছা পুড়িয়ে বা পচিয়ে ফেলবেন। আগাছা দমন হলে ট্রাক্টর দিয়ে ৩টি চাষ দিতে হবে। মাটি ছোট ছোট ঝুর ঝুরে করে নিতে হবে। জমি যেন পরিস্কার পরিছন্ন হয়। জমির শেষ চাষে বিঘা প্রতি টি এস পি ২৫কেজি, পটাশ ১৫ কেজি, দস্তা ২ কেজি ইত্যাদি সার এবং মাটি শোধন বিষ অথবা ফোরাডান, ২ কেজি দিতে হবে এবং মই দিয়ে জমি সমান করে মাটি প্রস্তুত করে নিতে হয়। রুটার দিয়ে চাষ দিলে মই দেওয়া লাগবে না। যদি ধানের জমি হয় বা ২-৩ মাস পানিতে নিমজ্জিত থাকার পর এখন হালকা শুকনা বা নরম খালি জমিতে পেঁয়াজের চারা রোপণ করতে চাইলে আপনার জমিতে লুকিয়ে থাকা ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক বা ফাঙ্গাস দূর করতে হবেঃ কিভাবে দূর করবেন চলুন জেনে নিইঃ নিচে জমি থেকে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস দূর করার কার্যকর পদ্ধতিগুলো দেওয়া হলো: ১. জৈব পদ্ধতি (সবচেয়ে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী) ট্রাইকোডার্মা (Trichoderma) ব্যবহার: জমি তৈরির শেষ চাষের সময় বিঘা প্রতি ১-২ কেজি ট্রাইকোডার্মা পাউডার বা ট্রাইকো-কম্পোস্ট সারের সাথে মিশিয়ে মাটিতে ছিটিয়ে দিন। এটি মাটির ক্ষতিকর ছত্রাকগুলোকে খেয়ে ফেলে এবং মাটিকে সুরক্ষিত রাখে। নিম খৈল: জমি তৈরির সময় বিঘা প্রতি ২০-৩০ কেজি নিম খৈল প্রয়োগ করলে মাটিবাহিত অনেক ব্যাকটেরিয়া ও ক্ষতিকর কৃমি ধ্বংস হয়। ২. প্রাকৃতিক শোধন (সোলারাইজেশন) জমি তৈরির সময় মাটি ঝুরঝুরে করে কয়েকদিন কড়া রোদে ফেলে রাখুন। সম্ভব হলে স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে জমি ঢেকে দিন। এতে মাটির ভেতরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, ফলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস মারা যায়। ৩. রাসায়নিক শোধন (তীব্র সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকলে) ছত্রাকনাশক প্রয়োগ: শেষ চাষের আগে প্রতি শতক জমিতে ৫০-১০০ গ্রাম কার্বেন্ডাজিম (যেমন: নোইন বা অটোস্টিন) অথবা ম্যানকোজেব জাতীয় ছত্রাকনাশক পাউডার ছিটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিন। ব্লিচিং পাউডার: জমি তৈরির ১০-১৫ দিন আগে প্রতি শতকে ১০০-১৫০ গ্রাম ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দিলে ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ (যেমন: পচন রোগ) অনেক কমে যায়। ৪. বীজ বা কন্দ শোধন (অবশ্যই পালনীয়) মাটি শোধন করার পাশাপাশি পেঁয়াজের চারা বা কন্দ শোধন করা জরুরি। এতে বীজবাহিত রোগ মাটিতে ছড়াতে পারে না। ১ লিটার পানিতে ২ গ্রাম কার্বেন্ডাজিম মিশিয়ে পেঁয়াজের চারা বা কন্দগুলো ১০-১৫ মিনিট ভিজিয়ে রেখে তারপর রোপণ করুন। চারা রোপণঃ চারা রোপণ ২ ভাবে করতে পারেনঃ ১) কাদার ভিতর চারা রোপণ পদ্ধতিঃ চারা রোপণের ১ দিন আগে চাষকৃত জমি সেচ দিয়ে জমি ভিজিয়ে নিতে হবে। চারা রোপণের দিন ৩৩ শতক জমিতে ১৫ কেজি ডি এ পি, ১০ কেজি ইউরিয়া সার এবং ঘাস রোধক বিষ পেন্ডামিথালিন গ্রুপের পানিডা/ ক্রিজেন্ডা ৩ বোতল বা ৩০০ গ্রাম একসাথে মিশিয়ে দানা করে জমিতে প্রয়োগ করতে হবে। এরপর জমিতে আবার পানি ছেড়ে দিন। এরপর কৃষকরা কাদাময় জমিতে পেঁয়াজের চারা রোপণ করে দিবে। ভিডিও দেখুন ১) কাঁদায় পেঁয়াজের চারা রোপণ পদ্ধতি ভিডিও দেখুন ২) কাঁদায় পেঁয়াজের চারা রোপণ পদ্ধতি ২) শুকনা নরম মাটিতে চারা রোপণঃ শুকনা নরম মাটিতে কৃষক দিয়ে ৪-৫ ইঞ্চি স্কয়ার দূরত্ব বজায় রেখে পেঁয়াজের চারা রোপণ করে দিন। এরপর ৩৩ শতক জমিতে ঘাস রোধক বিষ পেন্ডামিথালিন গ্রুপের পানিডা/ ক্রিজেন্ডা ৩ বোতল বা ৩০০ গ্রাম পরিমাণ মত পানির সাথে মিশিয়ে স্প্রে করে দিন। স্প্রে করা হলে জমিতে সেচ দিয়ে দিন । এর পর মাটি একটু শুকালে ৭-৮ দিন পর ৪৮ লিটার পানিতে ১৫০ গ্রাম ইপ্রোড্রিয়ন গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন রোভরাল, সেভরাল, মেমোরাল ইত্যাদি যেকোন একটি ছত্রাকনাশক , এমামেক্টিন গ্রুপের ফ্রিজ, কাপলান, সুলতান ইত্যাদি যেকোন একটি কীটনাশক এবং মেনকোজেব গ্রুপ স্প্রে করে দিতে হবে। রোপণের পর ১৫-২০ দিন পর যখন মাটি শুকিয়ে যাবে তখন ১ম সেচ দিতে হবে। ১ম সেচে সার প্রয়োগঃ ৩৩ শতক জমিতে টি এস পি ৫০ কেজি, ইউরিয়া ২৫ কেজি, ম্যাগমিল প্লাস (ম্যাগনেশিয়াম সালফেট) ১২ কেজি, নিউট্রি (রাসায়নিক পুষ্টি সার এটি মূলত ডলোমাইট বা ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম কার্বনেটের মিশ্রণ) ৭ কেজি, গ্রোথ সার (এটি মুলত ন্যাপথেলিন এসিটিক এসিড, ক্যালসিয়াম কার্বনেট ও ম্যাগনেসিয়াম কার্বনেট সমৃদ্ধি সার) এবং ঘাস রোধক বিষ পেন্ডামিথালিন গ্রুপের পানিডা/ ক্রিজেন্ডা ৩ বোতল বা ৩০০ গ্রাম একসাথে মিশিয়ে জমিতে প্রয়োগ করতে হবে। এই সার ও বিষ সুন্দরভাবে মিশিয়ে জমিতে ছিটানোর পর সেচ দিতে হবে। সেচের পর ৭-৮ দিন পর যখন মাটির জো হবে তখন খুচিয়ে/ নিড়িন/ কুপিয়ে দিতে হবে। নিড়ানির পর যেমন রোভরাল, সেভরাল, মেমোরাল ইত্যাদি যেকোন একটি ছত্রাকনাশক , এমামেক্টিন গ্রুপের ফ্রিজ, কাপলান, সুলতান ইত্যাদি যেকোন একটি কীটনাশক এক সাথে মিশিয়ে স্প্রে করে দিতে হবে। যাহাতে পেঁয়াজের পাতা সতেজ থাকে। ভিডিও দেখুন ১ম সেচে সার প্রয়োগ পেঁয়াজ গাছের বয়স ৩৫-৪০ দিন হলে আবারও ২য় সেচ দিতে হবে। ২য় সেচে সার প্রয়োগঃ ৩৩ শতক জমিতে টি এস পি ৫০ কেজি, ইউরিয়া ২৫ কেজি সার এবং ঘাস রোধক বিষ পেন্ডামিথালিন গ্রুপের পানিডা/ ক্রিজেন্ডা ৩ বোতল বা ৩০০ গ্রাম একসাথে মিশিয়ে জমিতে প্রয়োগ করতে হবে। এই সার ও বিষ সুন্দরভাবে মিশিয়ে জমিতে ছিটানোর পর সেচ দিতে হবে। সেচের পর ৭-৮ দিন পর যখন মাটির জো হবে তখন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খুচিয়ে/ নিড়িন/ কুপিয়ে দিতে হবে। নিড়ানির পর যেমন রোভরাল, সেভরাল, মেমোরাল ইত্যাদি যেকোন একটি ছত্রাকনাশক , এমামেক্টিন গ্রুপের ফ্রিজ, কাপলান, সুলতান ইত্যাদি যেকোন একটি কীটনাশক এক সাথে মিশিয়ে স্প্রে করে দিতে হবে। যাহাতে পেঁয়াজের পাতা সতেজ থাকে। ভিডিও দেখুন ২য় সেচে সার প্রয়োগ পেঁয়াজ গাছের বয়স যখন ৬০-৭০ দিন হবে তখন যদি পেঁয়াজ উঠিয়ে বিক্রয় করে দিতে চান তাহলে ৩য় সেচ দিতে হবে, আর যদি ঘরে সংরক্ষণ করে রাখতে চান তাহলে সেচ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে সেচ দিলে পেঁয়াজ বড় হবে এবং ফলন বৃদ্ধি হবে। এর পর পেঁয়াজের বয়স ৯০-১০০ দিন বয়স হলে বিক্রয়ের উপযুক্ত হবে। কেমন পেঁয়াজ উৎপাদন হল ভিডিও দেখুন এই সুখ সাগর পেঁয়াজ ৮-১০ মাস সংরক্ষন করে রেখে দেওয়া যায়। বিশেষ কথাঃ মাটি অনুযায়ী সার ও সেচ কম বেশি হতে পারে। পেঁয়াজের গাছের কন্ডিশন অনুযায়ী সপ্তাহে একবার অথবা দুইবার কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। যাহাতে পেঁয়াজের পাতা সতেজ থাকে।
পেঁয়াজের চারা রোপণের পর আগা শুকিয়ে যাওয়া, শিকড় পচে যাওয়া, পাতা হলুদ হয়ে যাওয়া, গাছ নুয়ে পড়া সমস্যা কেন হয় এবং করনীয় কি? 

পেঁয়াজের চারা রোপণের পর আগা শুকিয়ে যাওয়া, শিকড় পচে যাওয়া, পাতা হলুদ হয়ে যাওয়া, গাছ নুয়ে পড়া সমস্যা কেন হয় এবং করনীয় কি? 

পেঁয়াজের চারা রোপণের পর আগা শুকিয়ে যাওয়া, শিকড় পচে যাওয়া, পাতা হলুদ হয়ে যাওয়া, গাছ নুয়ে পড়া সমস্যা কেন হয় এবং করনীয় কি?  সাধারণত পেঁয়াজের চারা এমন হওয়ার পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ থাকতে পারে: ১. সেচ ও আর্দ্রতার সমস্যা অভাব: মাটিতে রসের অভাব হলে চারাগুলো হলুদ হয়ে ঢলে পড়তে পারে। অতিরিক্ত: আবার যদি গোড়ায় পানি জমে থাকে, তবে শিকড় পচে গিয়েও চারা শুকিয়ে যায়। ২. ড্যাম্পিং অফ বা চারা ধসা রোগ এটি একটি ছত্রাকজনিত সমস্যা। এই রোগে চারার গোড়া পচে সরু হয়ে যায় এবং চারা মাটিতে শুয়ে পড়ে। সাধারণত মাটি বেশি ভেজা থাকলে এবং বাতাস চলাচলের অভাব হলে এটি দেখা দেয়। ৩. থ্রিপস (পোকা) এর আক্রমণ পেঁয়াজের পাতার ভাঁজে খুব ছোট ছোট 'থ্রিপস' পোকা আক্রমণ করলে পাতার রস চুষে নেয়। ফলে পাতা রূপালী বা সাদাটে হয়ে যায় এবং চারা দুর্বল হয়ে শুকিয়ে যায়। ৪. পুষ্টির অভাব মাটিতে যদি সালফার, পটাশ বা নাইট্রোজেনের ঘাটতি থাকে, তবে চারার বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং আগা শুকিয়ে যায়। আপনার জন্য করণীয়: মাটি পরীক্ষা করুন: যদি মাটি খুব শক্ত হয়ে থাকে, তবে নিড়ানি দিয়ে মাটি আলগা করে দিন এবং প্রয়োজনমতো হালকা সেচ দিন। ছত্রাকনাশক প্রয়োগ: ছত্রাকজনিত সমস্যা মনে হলে কার্বেন্ডাজিম (Carbendazim) বা ম্যানকোজেব (Mancozeb) গ্রুপের ছত্রাকনাশক (যেমন: অটোস্টিন বা ডাইথেন এম-৪৫) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম মিশিয়ে স্প্রে করতে পারেন। পোকা দমন: যদি পোকার আক্রমণ দেখেন, তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে হালকা কোনো ইমিডাক্লোপ্রিড গ্রুপের কীটনাশক ব্যবহার করতে পারেন। পরিমিত সার: চারা একটু সতেজ হলে হালকা ইউরিয়া এবং পটাশ সার উপরিপ্রয়োগ করা যেতে পারে।
সুখ সাগর পেঁয়াজ চাষের আনুমানিক খরচ (১ বিঘা / ৩৩ শতক)

সুখ সাগর পেঁয়াজ চাষের আনুমানিক খরচ (১ বিঘা / ৩৩ শতক)

১. বীজ ও চারা উৎপাদন খরচ (৪ শতক বীজতলা) এই ধাপে ১ কেজি বীজ এবং আপনার উল্লেখিত বীজতলার সারের হিসাব ধরা হয়েছে। বিবরণ পরিমাণ আনুমানিক দর (টাকা) মোট (টাকা) পেঁয়াজ বীজ (সুখ সাগর) ১ কেজি ৪,৫০০ - ৫,০০০ ৫,০০০ জমি তৈরি (ইউরিয়া, চাষ, লেবার) -- -- ১,০০০ বীজতলার সার ও ঔষধ টিএসপি, পটাশ, রুটোন, বোরন, নাইট্রো ইত্যাদি) -- ১,৫০০ বীজ শোধন (মেনসার) ৩৫ গ্রাম ১০০ ১০০ চারা পরিচর্যা সার (২১-৪০ দিন) (ইউরিয়া, দস্তা, ডিএপি, ম্যাগমা)* -- ৩,৫০০ উপ-মোট (বীজ ও চারা)     ১১,১০০ টাকা   ২. মূল জমি তৈরি ও রোপণ খরচ (৩৩ শতক) চারা রোপণের দিন পর্যন্ত খরচ। বিবরণ পরিমাণ আনুমানিক দর (টাকা) মোট (টাকা) আগাছা দমন (ইউরিয়া + সেচ + জাহামা) -- -- ৮০০ জমি চাষ (ট্রাক্টর/পাওয়ার টিলার) ৩-৪ চাষ + মই -- ৩,০০০ শেষ চাষের সার টিএসপি ২৫ কেজি, পটাশ ১৫ কেজি, দস্তা ২ কেজি, ফোরাডান ২ কেজি -- ২,২০০ রোপণের সার ও ঔষধ ডিএপি ১৫ কেজি, ইউরিয়া ১০ কেজি, প্যানিডা (৩ বোতল) -- ১,৮০০ শ্রমিক (চারা রোপণ) আনুমানিক ১০-১২ জন ৬০০ টাকা/জন ৭,২০০ উপ-মোট (জমি ও রোপণ)     ১৫,০০০ টাকা   ৩. সেচ, সার ও পরিচর্যা (রোপণ পরবর্তী) আপনার দেওয়া ৪টি সেচ এবং সারের ধাপ অনুযায়ী খরচ। বিবরণ পরিমাণ/ধাপ মোট (টাকা) ১ম স্প্রে (৫-৭ দিন) ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক ৪০০ ২য় সেচ ও সার (১০-১৫ দিন) ড্যাপ ৩০ কেজি, ইউরিয়া ২০ কেজি, প্যানিডা (ঘাস মারা) ২,৫০০ ৩য় সেচ ও সার (৩০-৩৫ দিন) টিএসপি ৫০ কেজি, ইউরিয়া ২০ কেজি, ম্যাগমা, থিওভিট, প্যানিডা ৩,৮০০ ৪র্থ সেচ ও সার (৫০-৫৫ দিন) ইউরিয়া ৩০ কেজি, সালফেট ১০, দস্তা ১০, পটাশ ২৫, প্যানিডা ৪,২০০ সেচ খরচ (মোট ৪-৫ বার) জ্বালানি/বিদ্যুৎ ৩,০০০ নিড়ানি ও পরিচর্যা শ্রমিক ২ বার (মাটি আলগা করা) ৪,০০০ অতিরিক্ত স্প্রে রোগবালাই অনুযায়ী (সপ্তাহে ১ বার ধরলে) ৩,০০০ উপ-মোট (পরিচর্যা)   ২০,৯০০ টাকা ৪. ফসল উত্তোলন ও অন্যান্য বিবরণ বিস্তারিত খরচ (টাকা) ফসল তোলা ও প্রসেসিং শ্রমিক খরচ ৪,০০০ পরিবহন ও বিবিধ -- ১,০০০ উপ-মোট   ৫,০০০ টাকা   সর্বমোট খরচ খাতের নাম খরচ (টাকা) ১. বীজ ও চারা তৈরি ১১,১০০ ২. জমি তৈরি ও রোপণ ১৫,০০০ ৩. সেচ ও পরিচর্যা ২০,৯০০ ৪. উত্তোলন ও বিবিধ ৫,০০০ সর্বমোট আনুমানিক খরচ ৫২,০০০ টাকা (± ১০%) আয়-ব্যয়ের ধারণা: ভালো ফলন হলে ১ বিঘা জমিতে ১০০ থেকে ১২০ মণ সুখ সাগর পেঁয়াজ পাওয়া সম্ভব। যদি গড় বাজার দর ৮০০ টাকা/মণ হয়, তবে বিক্রয় মূল্য: ৮০,০০০ - ৯৬,০০০ টাকা। মৌসুমের শেষে বা সংরক্ষণের পর বিক্রি করলে দাম আরও বেশি পাওয়া যায়। সতর্কতা: সারের দাম ও শ্রমিকের মজুরি এলাকাভেদে ভিন্ন হতে পারে। এছাড়া আবহাওয়ার ওপর ভিত্তি করে স্প্রে বা সেচের খরচ কম-বেশি হতে পারে।
সুখ সাগর পেঁয়াজ চাষের পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা

সুখ সাগর পেঁয়াজ চাষের পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা

১. চারা বা বীজতলা তৈরি (Seedling Preparation)   ভালো ফলনের মূল ভিত্তি হলো সুস্থ চারা। জমি ও মাটি: মাটি: বেলে দোআঁশ বা পলি দোআঁশ মাটি। জমির পরিমাণ: ১ কেজি বীজের জন্য ৪ শতক জমি (বেশি হলে ভালো)। জমি প্রস্তুত প্রণালী (৪ শতক জমির জন্য): ১. প্রথমে ৫-৬ কেজি ইউরিয়া ছিটিয়ে সেচ দিন (আগাছা জন্মানোর জন্য)। ২. আগাছা বের হলে 'জাহামা' দিয়ে পুড়িয়ে ফেলুন। ৩. ২-৩টি চাষ দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করুন। ৪. শেষ চাষে সারের মাত্রা: সারের নাম পরিমাণ (৪ শতক জমির জন্য) টি.এস.পি ২ কেজি এম.ও.পি (পটাশ) ১.৫ কেজি ইউরিয়া ৫০০ গ্রাম নাইট্রো ৫০০ মিলি কার্বোটাফ ৫ জি ২০০ গ্রাম রুটোন ৫০০ গ্রাম বোরন ৬০ গ্রাম বেড তৈরি ও বীজ বপন: বেড সাইজ: প্রস্থ ৩ হাত, দৈর্ঘ্য ৪০-৫০ হাত। দুই বেডের মাঝে ১ ফুট নালা (চলাচল ও সেচের জন্য)। বেড একটু ঢালু রাখতে হবে। বীজ শোধন: ১ কেজি বীজে ৩৫ গ্রাম মেনসার (ম্যানকোজেব ও কারবেন্ডাজিম) দিয়ে মেখে ঝরঝরে করে নিন। বপন পদ্ধতি: শুকনা বা ১২ ঘণ্টা ভেজানো বীজ বেডে ছিটিয়ে ঝরনা দিয়ে সেচ দিন। আর্দ্রতা ধরে রাখতে খড় বা বিচালি বিছিয়ে দিতে পারেন।   ২. চারার যত্ন ও পরিচর্যা (Seedling Care Schedule)   সময় (বয়স) করণীয় কাজ ও সারের মাত্রা ১০-১৫ দিন আগাছানাশক স্প্রে (এক্টিভার/অক্সিফ্লোর/সনেট ইত্যাদি)। ১৬-২০ দিন আগাছানাশক দেওয়ার ৫-৬ দিন পর চিলেটেড + রিডোমিল গোল্ড + কীটনাশক স্প্রে। ২১ দিন ১ম সার: ইউরিয়া ১৩ কেজি + দস্তা ৪ কেজি + ডি.এ.পি ২০ কেজি। ৩০ দিন ২য় সার: টি.এস.পি ২০ কেজি + ইউরিয়া ২০ কেজি + ম্যাগমা প্লাস ৪ কেজি। ৪০ দিন ৩য় সার (চারা মোটা করতে): ইউরিয়া ২০ কেজি + দস্তা ৫ কেজি। ৪৫-৫০ দিন চারা রোপণের উপযুক্ত সময় (বৃষ্টিমুক্ত আবহাওয়ায়)।   ৩. মূল জমি তৈরি ও চারা রোপণ (Main Field & Transplanting)   হিসাব: প্রতি বিঘা বা ৩৩ শতক জমির জন্য। জমি প্রস্তুত: ১. প্রথমে ৫-৬ কেজি ইউরিয়া দিয়ে সেচ ও আগাছা দমনের একই পদ্ধতি অনুসরণ করুন। ২. ট্রাক্টর দিয়ে ৩টি চাষ ও মই দিয়ে মাটি তৈরি করুন। ৩. শেষ চাষে সার: টি.এস.পি ২৫ কেজি + পটাশ ১৫ কেজি + দস্তা ২ কেজি + মাটি শোধন বিষ/ফোরাডান ২ কেজি। রোপণ পদ্ধতি: সার প্রয়োগ (রোপণের দিন/আগের দিন): ডি.এ.পি ১৫ কেজি + ইউরিয়া ১০ কেজি + পেন্ডামিথালিন (ঘাস রোধক) ৩০০ গ্রাম/৩ বোতল। দূরত্ব: ৪-৫ ইঞ্চি স্কয়ার দূরত্বে চারা লাগাতে হবে।   ৪. সেচ, সার ও বালাই ব্যবস্থাপনা (Irrigation & Fertilizer Schedule)   গাছ লাগানোর পর ধাপে ধাপে নিচের ছক অনুযায়ী পরিচর্যা করতে হবে: সময়কাল কার্যক্রম ও সারের মাত্রা (৩৩ শতক জমির জন্য) ৫-৭ দিন পর ছত্রাকনাশক (রোভরাল/সেভরাল) + কীটনাশক (ফ্রিজ/কাপলান) স্প্রে। ১০-১৫ দিন পর ২য় সেচ ও সার: ড্যাপ ৩০ কেজি + ইউরিয়া ২০ কেজি + পেন্ডামিথালিন ৩০০ গ্রাম। মাটি জো হলে নিড়ানি দিন এবং পরে আবার স্প্রে করুন। ৩০-৩৫ দিন পর ৩য় সেচ ও সার: টি.এস.পি ৫০ কেজি + ইউরিয়া ২০ কেজি + ম্যাগমা প্লাস ৪ কেজি + থিওভিট ২ কেজি + পেন্ডামিথালিন ৩০০ গ্রাম। এরপর মাটি খুচিয়ে দিন এবং স্প্রে করুন। ৫০-৫৫ দিন পর ৪র্থ সেচ ও সার: ইউরিয়া ৩০ কেজি + সালফেট ১০ কেজি + দস্তা ১০ কেজি + পটাশ ২৫ কেজি + পেন্ডামিথালিন ৩০০ গ্রাম।   ৫. ফসল সংগ্রহ ও সংরক্ষণ   সংগ্রহ: গাছের বয়স ৯০-১০০ দিন হলে পেঁয়াজ তোলার উপযুক্ত হয়। সংরক্ষণ: সুখ সাগর জাতের পেঁয়াজ সাধারণত ৮-১০ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। ⚠️ বিশেষ সতর্কতা: মাটির গুণাগুণ ভেদে সারের পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে। পাতার সতেজতা বজায় রাখতে গাছের অবস্থা বুঝে সপ্তাহে ১-২ বার ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক স্প্রে করতে হবে।
৩৩ শতকে বা ১ বিঘায় ২০০ মন ফলন

৩৩ শতকে বা ১ বিঘায় ২০০ মন ফলন

v বপন পদ্ধতিতে পেঁয়াজ চাষ করতে হবে। v বেলে দোয়াস বা পলি দোয়াস মোটা মাটি হতে হবে। v বাংলায় ২৫ শে আশ্বিন থেকে ১৫ই কার্তিক মাস এবং ইংরেজিতে ১০ অক্টোবর থেকে ৩০ শে অক্টোবর মাসের মধ্যে চারা জমিতে ছিটাতে হবে। v কমপক্ষে ১০ টি সেচ ও ৭ বার নিড়ানি বা কোপ দিতে হবে। v কমপক্ষে ১৫০ দিন সময় কাল দিতে হবে। v প্রত্যেক সেচে পরিমাণ মত সার দিতে হবে। v সপ্তাহে ১ বার ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক স্প্রে করতে হবে। v ৪ ইঞ্চি পর পর চারা রেখে বাকি চারা তুলে ফেলতে হবে। v সবসময় জমি আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। v পেঁয়াজের কন্দ যেন মাটির উপরে থাকে। v খেয়াল রাখতে হবে যেন পেঁয়াজের গোঁড়া মাটির বেশি গভীরে না যায়।
মাস্টার নাসিক পেঁয়াজ চাষ পদ্ধতি

মাস্টার নাসিক পেঁয়াজ চাষ পদ্ধতি

প্রথমে চারা তৈরি করতে হবে। চারা তৈরি করার জন্য কি কি করবেন চলুন জেনে নিইঃ প্রথমে জমি নির্বাচন করুন যেখানে চারা তৈরি করবেন। জমিটি অবশ্যই ঢালু হতে হবে যেখানে বৃষ্টির পানি জমে থাকে না, বৃষ্টি বা সেচ দিলে পানি গড়িয়ে চলে যাবে। নাসিক পেঁয়াজ চাষের জন্য বেলে দোয়াস, পলি দোয়াস ইত্যাদি মাটি সবচেয়ে বেশি উপযোগী। ১ কেজি পেঁয়াজের দানাতে চারা তৈরির জন্য ৪ শতক জমির প্রয়োজন। বেশি নিলে আরও ভাল হয়। এখন জেনে নিই কিভাবে চারা জন্য জমি প্রস্তুত করবেনঃ প্রথমে আপনি ৩৩ শতক জমিতে ৫-৬ কেজি ইউরিয়া সার ছিটিয়ে সেচ দিবেন। এর ফলে জমিতে লুকিয়ে থাকা আগাছা মাটি থেকে উপরে বের হয়ে আসবে। এরপর আপনি জাহামা দিয়ে আগাছা পুড়িয়ে বা পচিয়ে ফেলবেন। তারপর জমি খুব ভাল করে ২-৩ টি চাষ দিয়ে মাটি ছোট ছোট ঝুর ঝুরে করে সমান করে নিন। শেষ চাষে আপনি ৪ শতক জমির জন্য ২ কেজি টি এস পি, ১ কেজি ৫০০ গ্রাম এম ও পি (পটাশ), ৫০০ গ্রাম ইউরিয়া, নাইট্রো ৫০০ml, ২০০ গ্রাম কার্বোটাফ ৫ জি, ৫০০ গ্রাম রুটোন এবং ৬০ গ্রাম বোরন মিশিয়ে মাটি প্রস্তুত করে নিন। মাটির গুনাগুন ভেদে সারের পরিমাণ কম বেশি হতে পারে। বেডের মাফ প্রস্থ ৩ হাত এবং দৈর্ঘ্য ৪০- ৫০ হাত দিবেন। ২ বেডের মাঝখানে ১ ফুট ফাঁকা রাখতে হবে। এই ফাঁকা জায়গাতে আপনি চলাচল করতে পারবেন এবং সেচ দিতে পারবেন। বেড অবশ্যই কিছুতা ঢালু করতে হবে। যাহাতে বৃষ্টির পানি বা সেচের পানি জমে না থাকে।   এখন নাসিক পেঁয়াজের বীজ বা দানা ছিটানোর সময়ঃ পেঁয়াজের দানা ২ টি পদ্ধতিতে ছিটানো যায়। ১) শুকনা পেঁয়াজের দানা বেডের শুকনা মাটিতে ছিটিয়ে দেওয়া। এরপর পর ঝরনা দিয়ে বেডের উপর বা বেডের মাঝখানে নালাতে ধালাও ভাবে সেচ দিতে হবে ২) শুকনা পেঁয়াজের দানা ১২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। তারপর পানি ঝরিয়ে নিতে হয়। এরপর  বেডের শুকনা মাটিতে ছিটিয়ে দিতে হবে। এরপর পর ঝরনা দিয়ে বেডের উপর সেচ দিতে হবে। পেঁয়াজের দানা ছিটানোর আগে শোধন করে নিতে পারেন । ১ কেজি নাসিক পেঁয়াজের দানার সাথে ৩৫ গ্রাম মেনসার ( মেঙ্কোজেব ও কারবেন্ডাজিম) ভাল করে মিশাতে হবে এবং হালকা পানি দিয়ে ভাল করে মাখিয়ে নিন। তারপর পেঁয়াজের দানা কিছুক্ষুন রেখে দিয়ে ঝর ঝরে করে নিতে হবে। মেনসার দিলে বর্ষার পানি বীজ সহজে নষ্ট করতে পারে না। যদি ঝরনা দিয়ে সেচ দিতে চান তাহলে পেঁয়াজের দানা ছিটানোর পর বেডের উপর খড় বা বিচালি বিছিয়ে দিয়ে পারেন।    এখন পেঁয়াজের দানাগুলো বা চারা গুলো কে রোদ ও বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা করতে হবেঃ   v রোদ ও বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষার জন্য পলিথিন বা নেট দিয়ে চাউনি দিতে হবে।   v যদি ২-৩ ফুট উঁচু করে পলিথিন বা নেট দিয়ে ছাউনি তৈরি করেন তাহলে চারা ছোট থাকা অবস্থায় যখন বৃষ্টি হবে না তখন আপনি পলিথিন বা নেট সরিয়ে বা আগলা করে রাখবেন। যদি হঠাত প্রচুর রোদ শুরু হয় তাহলে সকাল ১০ থেকে বিকাল ৪ পর্যন্ত পলথিন বা নেট ছাউনি দিয়ে রাখবেন। বাকি সময়টি আপনাকে খুলে রাখতে হবে।    v তবে নেট বা পলিথিন দিয়ে ১০-১২ ফুট উঁচু করে ঘর তৈরি করে ছাউনি করতে পারলে সবচেয়ে ভাল হয়।   v সব চেয়ে ভাল হবে যদি ৫-৬ ফুট উঁচু করে ২ চালা করে সবুজ নেট দিতে পারেন।   পেঁয়াজের চারা যত্নঃ দানা বেডে ছিটানোর পর ১০ থেকে ১৫ দিন পর আগাছানাশক স্প্রে করতে হবে। আগাছানাশক হিসাবে এক্টিভার, অক্সিফ্লোর, অক্সি গোল্ড, হুইপ সুপার, সনেট, টাইজালো সুপার ইত্যাদি বাজারে পাওয়া যায়। আগাছা অনুযায়ী স্প্রে করতে হবে। স্প্রে করার ৫-৬ দিন পর চিলেটেড, রিডোমিল গোল্ড, এবং যেকোন কীটনাশক একসাথে মিশিয়ে স্প্রে করবেন। চারার বয়স ২১ দিন হলে ১ম সার প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া ১৩ কেজি, দস্তা ৪ কেজি, ডি এ পি ২০ কেজি দিতে হবে। চারার বয়স যখন ৩০ দিন হবে তখন ২য় সার প্রয়োগ করতে হবে। টি এস পি ২০ কেজি, ইউরিয়া ২০ কেজি, ম্যাগমা প্লাস ৪ কেজি দিতে হবে। চারার বয়স যখন ৪০ দিন হবে তখন চারা মোটা করার জন্য ইউরিয়া ২০ কেজি, দস্তা ৫ কেজি সার দিতে হবে। ফলে চারা মোটা হতে শুরু করবে। চারার বয়স যখন ৪৫-৫০ দিন বয়স হবে ঠিক তখন আবহাওয়া বুঝে যাহাতে লাগানোর ৭ দিনের মধ্যে বৃষ্টি না হয় সেদিকে খেয়াল করে অন্য জমিতে রোপণ করে দিবেন। চারা রোপণ পদ্ধতিঃ জমি তৈরিঃ প্রথমে আপনি জমিতে বিঘা প্রতি বা ৩৩ শতক জমিতে ৫-৬ কেজি ইউরিয়া সার ছিটিয়ে সেচ দিবেন। এর ফলে জমিতে লুকিয়ে থাকা আগাছা মাটি থেকে উপরে বের হয়ে আসবে। এরপর আপনি জাহামা দিয়ে আগাছা পুড়িয়ে বা পচিয়ে ফেলবেন। আগাছা দমন হলে ট্রাক্টর দিয়ে ৩টি চাষ দিতে হবে। মাটি ছোট ছোট ঝুর ঝুরে করে নিতে হবে। জমি যেন পরিস্কার পরিছন্ন হয়। জমির শেষ চাষে বিঘা প্রতি টি এস পি ২৫কেজি, পটাশ ১৫ কেজি, দস্তা ২ কেজি ইত্যাদি সার এবং মাটি শোধন বিষ অথবা ফোরাডান ২ কেজি দিতে হবে এবং মই দিয়ে জমি সমান করে মাটি প্রস্তুত করে নিতে হয়। রুটার দিয়ে চাষ দিলে মই দেওয়া লাগবে না। চারা রোপণঃ চারা রোপণের ১ দিন আগে জমি ভিজিয়ে নিতে হবে। পরের দিন অথবা চারা রোপণের দিন ৩৩ শতক  জমিতে  ১৫ কেজি ডি এ পি, ১০ কেজি ইউরিয়া সার এবং ঘাস রোধক বিষ পেন্ডামিথালিন গ্রুপের পানিডা/ ক্রিজেন্ডা  ৩ বোতল বা ৩০০ গ্রাম একসাথে মিশিয়ে জমিতে প্রয়োগ করতে হবে। অথবা চারা লাগানোর পরে পেন্ডামিথালিন গ্রুপের পানিডা স্প্রে করেও দিতে পারেন। যদি চাষ দেওয়া শুকনা মাটিতে চারা রোপণ করে সেচ দিলেও হবে। এখন কৃষক দিয়ে ৫-৬ ইঞ্চি স্কয়ার দূরত্ব বজায় রেখে পেঁয়াজের চারা রোপণ করে দিতে হবে। এর পর মাটি একটু শুকালে ৫-৭ দিন পর ৪৮ লিটার পানিতে ১৫০ গ্রাম ইপ্রোড্রিয়ন গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন রোভরাল, সেভরাল, মেমোরাল ইত্যাদি যেকোন একটি ছত্রাকনাশক , এমামেক্টিন গ্রুপের ফ্রিজ, কাপলান, সুলতান ইত্যাদি যেকোন একটি কীটনাশক স্প্রে করে দিতে হবে। ১০-১৫ দিন পর যখন মাটি শুকিয়ে যাবে তখন ২য় সেচ দিতে হবে। ২য় সেচে সার প্রয়োগঃ এই সেচে ৩৩ শতক জমিতে ড্যাপ ৩০ কেজি, ইউরিয়া ২০ কেজি, ইত্যাদি সার  এবং ঘাস রোধক বিষ পেন্ডামিথালিন গ্রুপের পানিডা/ ক্রিজেন্ডা  ৩ বোতল বা ৩০০ গ্রাম একসাথে মিশিয়ে জমিতে প্রয়োগ করতে হবে। মাটি যো হলে ৫-৭ দিন পর খুচিয়ে/ নিড়িন/ কুপিয়ে দিতে হবে। নিড়ানির পর যেমন রোভরাল, সেভরাল, মেমোরাল ইত্যাদি যেকোন একটি ছত্রাকনাশক , এমামেক্টিন গ্রুপের ফ্রিজ, কাপলান, সুলতান ইত্যাদি যেকোন একটি কীটনাশক স্প্রে করে দিতে হবে। যাহাতে পেঁয়াজের পাতা সতেজ থাকে। পেঁয়াজ গাছের বয়স ৩০-৩৫ দিন হলে আবারও সেচ দিতে হবে।  ৩য় সেচে সার প্রয়োগঃ ৩৩ শতক জমিতে টি এস পি ৫০ কেজি, ইউরিয়া ২০ কেজি, ম্যাগমা প্লাস বা দস্তা ৪ কেজি, থিয়োভিট ২ কেজি, ইত্যাদি সার এবং ঘাস রোধক বিষ পেন্ডামিথালিন গ্রুপের পানিডা/ ক্রিজেন্ডা  ৩ বোতল বা ৩০০ গ্রাম একসাথে মিশিয়ে জমিতে প্রয়োগ করতে হবে। এর পর মাটি হালকা শুকানোর পর খুচিয়ে/ নিড়িন/ কুপিয়ে দিতে হবে।  এর পর পেঁয়াজের গাছের অবস্থা অনুযায়ী কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। যাহাতে পেঁয়াজের পাতা সতেজ থাকে। পেঁয়াজ গাছের বয়স যখন ৫০-৫৫ দিন হবে তখন আবারও জমিতে সার প্রয়োগ করতে হবে। ৪র্থ সেচে সার প্রয়োগঃ ৩৩ শতক জমিতে ইউরিয়া ৩০ কেজি, সালফেট ১০ কেজি, দস্তা ১০ কেজি, পটাশ ২৫ সার এবং ঘাস রোধক বিষ পেন্ডামিথালিন গ্রুপের পানিডা/ ক্রিজেন্ডা  ৩ বোতল বা ৩০০ গ্রাম একসাথে মিশিয়ে জমিতে প্রয়োগ করতে হবে। এর পর পেঁয়াজের বয়স ৯০-১০০ দিন বয়স হলে বিক্রয়ের উপযুক্ত হবে। এই নাসিক পেঁয়াজ ১ মাস সংরক্ষন করে রেখে দেওয়া যায়। বিশেষ কথাঃ মাটি অনুযায়ী সার ও সেচ কম বেশি হতে পারে। পেঁয়াজের গাছের কন্ডিশন অনুযায়ী সপ্তাহে একবার অথবা দুইবার কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। যাহাতে পেঁয়াজের পাতা সতেজ থাকে। 
৩৩ শতকে বা ১ বিঘায় ২০০ মন ফলনঃ

৩৩ শতকে বা ১ বিঘায় ২০০ মন ফলনঃ

পেঁয়াজ চাষের পদ্ধতি এই পদ্ধতিতে চারা ছিটিয়ে (বপন) পেঁয়াজ চাষ করা হয়। ১. জমি নির্বাচন ও মাটি: পেঁয়াজ চাষের জন্য বেলে দোআঁশ বা পলি দোআঁশ (এঁটেল ভাবহীন) মোটা মাটি উপযুক্ত। ২. চারা রোপণ/ছড়ানোর সময় (বপন): বাংলা মাস: ২৫শে আশ্বিন থেকে ১৫ই কার্তিক। ইংরেজি মাস: ১০ই অক্টোবর থেকে ৩০শে অক্টোবর। এই সময়ের মধ্যে প্রস্তুত জমিতে চারা ছিটিয়ে (বপন) দিতে হবে। ৩. পরিচর্যা: চারা পাতলাকরণ: চারা গজানোর পর সারিতে ৪ ইঞ্চি পর পর চারা রেখে বাকি অতিরিক্ত চারা তুলে ফেলতে হবে। সেচ: কমপক্ষে ১০টি সেচ দিতে হবে। প্রত্যেক সেচের সময় পরিমাণমতো সার প্রয়োগ করতে হবে। নিড়ানি ও কোপ: কমপক্ষে ৭ বার নিড়ানি বা কোপ দিতে হবে। আগাছা দমন: জমিকে সবসময় আগাছামুক্ত রাখতে হবে। কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক: সপ্তাহে একবার ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক স্প্রে করতে হবে। ৪. পেঁয়াজ কন্দের অবস্থান: চাষের সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন পেঁয়াজের কন্দ (বাল্ব) মাটির উপরে থাকে। পেঁয়াজের গোড়া যেন মাটির বেশি গভীরে না যায়। ৫. সময়কাল: চাষের পুরো সময়কাল (রোপণ থেকে ফসল কাটা) কমপক্ষে ১৫০ দিন দিতে হবে।
পেঁয়াজের চারার আগাছা নাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগঃ

পেঁয়াজের চারার আগাছা নাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগঃ

পেঁয়াজের চারার আগাছা নাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগঃ যখন পেঁয়াজের চারার ১৫-২০ দিন বয়স ঠিক তখন আগাছা নাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগঃ   হুইল সুপারঃ ৩০ শতক জমিতে  ১০০ মিলি ২ ধপ পানিতে ভাল করে মিশিয়ে স্প্রে করে দিতে হবে। এডেকোঃ বেলা ১২-১ টার ভিতর ২৫ মিলি ২ ধপ পানিতে ভাল করে মিশিয়ে স্প্রে করে দিতে হবে। এরপর ৩ দিনপর মেনকোজেব ও মেটালোক্সিল গ্রুপের আশামিল  ১০০ গ্রাম এবং সেতার ৫০ ml ২ ধপ পানিতে ভাল করে মিশিয়ে স্প্রে করে দিতে হবে। তারপর যখন জমি যো হবে  তখন সেচ দেওয়ার আগে ইপ্রোডিয়ন গ্রুপের সেভরাল ১০০ গ্রাম এবং সেতার ৫০ ml ২ ধপ পানিতে ভাল করে মিশিয়ে স্প্রে করে দিতে হবে।
সুখ সাগর পেঁয়াজ কখন চাষ শুরু হয়

সুখ সাগর পেঁয়াজ কখন চাষ শুরু হয়

সুখ সাগর জাতের পেঁয়াজ একটি উচ্চ ফলনশীল জাত । বপন পদ্ধতিতে ৩৩ শতাংশে ১৮০-২০০ মন উৎপাদন হয়। রোপণ পদ্ধতিতে ১২০-১৫০ মন উৎপাদন হয় । এই জাতের পেঁয়াজ রোপণ ও বপন ২ পদ্ধতিতে চাষ করা যায়। যদি বপন পদ্ধতিতে সুখ সাগর পেঁয়াজ চাষ শুরু করতে হয় তাহলে বাংলায় ২৫ শে আশ্বিন মাস থেকে ২৫ শে কার্তিক মাসের মধ্যে। ইংরেজিতে ১০ অক্টোবর মাস থেকে ১০ নভেম্বর মাসের ভিতর শুরু করাটাই উত্তম সময়। যদি রোপণ পদ্ধতিতে চাষ শুরু করতে হয় তাহলে বাংলায় ৫ অগ্রাহায়ণ থেকে ১০ পোষ মাসের মধ্য। ইংরেজিতে ২০ নভেম্বর থেকে ২৫ শে ডিসেম্বর মাসের ভিতর শুরু করাটাই উত্তম সময়। পরিপূর্ণ ফলন পেতে চারা রোপণের ১১০- ১২০ দিন পর জমি থেকে পেঁয়াজ তুলতে হয়।  সুখ সাগর পেঁয়াজ ঘরে ৬ থেকে ৮ মাস ঘরে সংরক্ষন করা যায়।  সরাসরি ভিডিও দেখে জানতে ও শিখতে চাইলে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সুখ সাগর পেঁয়াজ, Mithu Seeds Pvd Ltd, Banglar Krishi Kotha চ্যানেল গুলো দেখে আসতে পারেন। 
নাসিক জাতের পেঁয়াজ চাষ কখন শুরু হয়

নাসিক জাতের পেঁয়াজ চাষ কখন শুরু হয়

নাসিক জাতের পেঁয়াজ চাষ শুরু হয় খরিপ এবং লেট খরিপ সিজনে। খরিপ সিজন বলতে জুন মাসে শুরু হয় । লেট খরিপ বলতে আগস্ট মাসে শুরু হয়। বর্তমানে নাসিক জাতের পেঁয়াজ শীত কালে চাষ করা যায় না। শীতকালে চাষ শুরু করলে গাছ হবে কিন্তু কন্দ হবে না। নাসিক জাতের পেঁয়াজকে অনেকেই গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ/ বর্ষাকালীন পেঁয়াজ/ বারি ৫ / নাসিক রেড এন ৫৩ / ডার্ক রেড ইত্যাদি বলে ডাকে। সময়ের বাহিরে নাসিক জাতের পেঁয়াজ চাষ করলে কৃষক পুরুটাই লস খাবে। তাহলে নাসিক জাতের পেঁয়াজ চাষ শুরু হয় জুন থেকে আগস্ট মাসের মধ্য চারা দিতে হবে। চারার বয়স ৪০-৪৫ দিন হলে ভিন্ন জমিতে কাঁদার ভিতর অথবা শুকনা জমিতে লাগিয়ে সেচ দিতে হবে। চারা লাগানোর পর ৯০-১০০ দিন পর বিক্রয়ের উপযোগী হয়ে উঠে।  বাংলাদেশে অনেক অসাধু ব্যবসায়িক বেশি লাভের আশায় কৃষকদের মিথ্যা লাভের আশায় মেরে ফেলছে। যদি কেউ বলে নাসিক জাতের পেঁয়াজ শীতকালে চাষ হয় তাহলে বুঝবেন সে আপনাকে মিথ্যা বলছে।  তাই কৃষকদের জানা উচিত বর্তমানে বাংলাদেশে কখন কোন সময় কোন জাতের পেঁয়াজ চাষ হচ্ছে। 
নাসিক পেঁয়াজ চাষ পদ্ধতি

নাসিক পেঁয়াজ চাষ পদ্ধতি

শুরুতে আপনাদের একটি সুন্দর বেড তৈরি করতে হবে। বেডে ৪৫ দিন মত চারা থাকার পর, উপযুক্ত সময় সুযোগ বুঝে চারা জমিতে রোপণ করতে হবে। চারা রোপণের জন্য আগে থেকেই আপনার জমি ভাল করে চাষ দিতে হবে এবং শেষ চাষে সার ও কীটনাশক দিয়ে জমি প্রস্তুত করে নিতে হবে। চারা প্রস্তুত এবং জমি প্রস্তুত। এখন জমিতে পেঁয়াজের চারা রোপণের পালা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়ার সংবাদ জেনে শুনে উপযুক্ত সময় সুযোগ বুঝে জমিতে চারা রোপণ করতে হবে। পেঁয়াজের চারা কাঁদার ভিতর রোপণ করতে হবে বা নরম মাটিতে চারা লাগিয়ে সেচ দিলেও হবে। এতে কোন সমস্যা হবে না। নাসিক পেঁয়াজ চাষ বর্ষাকালীন হওয়ায় প্রয়োজনের তুলনায় সেচ,সার, কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক কম লাগে। অন্যান্য পেঁয়াজ চাসের মতই সার সেচ, কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক দিতে হবে। তবে ইউরিয়া সারের পরিমান কম দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে পেঁয়াজের চারা বর্ষার পানিতে মারা জেন না যায়। এই জন্য উচু এবং ঢালু জমি নাসিক পেঁয়াজ চাসের জন্য উপযুক্ত। এক বিঘা অর্থাৎ ৩৩ শতক জমিতে ১৮০ থেকে ২০০ মন পর্যন্ত ফলন হয়ে থাকে। নাসিক পেঁয়াজ ঘরে সংরক্ষণ করে রাখা যায় না । জমি থেকে পেঁয়াজ তোলার পর পর বিক্রয় করে দিতে হবে। তবে আমরা জানতে পেরেছি নাসিক পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা যায়। তবে কিভাবে সংরক্ষণ করা যায় আমরা জেনে শিখে আপনাদের জানাবো ইনশাল্লাহ।   পেঁয়াজ বিক্রয়ের উপযুক্ত হয়ে গেলে বিক্রয় করে দিতে হবে। নাসিক পেঁয়াজ অসময়ে উৎপাদন হয় বলে বাজারে ভাল দাম পাওয়া যায়। নাসিক পেঁয়াজ চাষ অনেক লাভজনক একটি চাষ। এই নাসিক পেঁয়াজ চাষ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লে দেশে কিছুতে পেঁয়াজের ঘাটতি পুরুন হতে পারে।
নাসিক পেঁয়াজের বেড তৈরি পদ্ধতি

নাসিক পেঁয়াজের বেড তৈরি পদ্ধতি

প্রথমেই বীজ শোধন করতে হবে। ১ কেজি নাসিক পেঁয়াজের দানার সাথে ৩৫ গ্রাম মেন্সার ( মেঙ্কোজেব ও কারবেন্ডাজিম) ভাল করে মিশাতে হবে এবং হাল্কা পানি দিয়ে ভাল করে মাখিয়ে নিন । মেন্সার দিলে বর্ষার পানি বীজ সহজে নষ্ট করতে পারে না। ১ কেজি পেঁয়াজের দানার জন্য ৩ শতক জমির প্রয়োজন। বেশি নিলে আরও ভাল হয়। ৩ শতক জমিতে ২ কেজি টি এস পি, ১ কেজি ৫০০ গ্রাম এম ও পি (পটাশ), ৫০০ গ্রাম ইউরিয়া, নাইট্রো ৫০০ml, ২০০ গ্রাম কার্বোটাফ ৫ জি, ৫০০ গ্রাম রুটোন এবং ৬০ গ্রাম বোরন প্রয়োজন। বেডের মাফ প্রস্থ ৩ হাত এবং দরঘ ৪০- ৫০ হাত দিবেন। বেড অবশ্যই কিছুতা ঢালু করতে হবে। বীজ ছিটানোর পর বিদি দিয়ে টেনে দিতে হবে। তার পর মাটি সমান করে দিতে হবে। তারপর জরনা দিয়ে সেচ দিতে হবে। রোদ ও বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষার জন্য চাউনি দিতে হবে। যখন বৃষ্টি হবে না তখন পলিথিন সরিয়ে রাখতে হবে বা আগলা করে রাখতে হবে। যদি হটাত প্রচুর রোদ শুরু হয় তাহলে সকাল ৯ থেকে বিকাল ৪ পর্যন্ত পলথিনের চাউনি দিয়ে রাখতে হবে। বাকি সময়টি খুলে রাখতে হবে।   এই ভাবে ৪৫ দিন যত্ন করবেন। তারপর চারা উঠিয়ে অন্য জমিতে রোপণ করে দিবেন।
বপনে পেঁয়াজ চাষ পদ্ধতি

বপনে পেঁয়াজ চাষ পদ্ধতি

বপনে উপযুক্ত মাটি হচ্ছে বেলে-দোয়াশ ও পলি-দোয়াশ  জমি তৈরিঃ ট্রাক্টর দিয়ে ৩টি চাষ দিতে হবে। মাটি ছোট ছোট ঝুর ঝুরে করে নিতে হবে। জমি যেন পরিস্কার পরিছন্ন হয়। জমির শেষ চাষে বিঘা প্রতি টি এস পি ২৫কেজি, পটাশ ১৫ কেজি, দস্তা ২ কেজি সার এবং  ফোরাডান মাটি শোধন বিষ ২ কেজি ইত্যাদি দিয়ে মাটি প্রস্তুত করে নিতে হবে। তারপর রোটার দিয়ে মাটি ছোট ছোট করে নিতে হবে।  বপনঃ রোটার দিয়ে মাটি ছোট করে নেওয়ার পর মাটি খুব ভাল করে শুকিয়ে নিয়ে সেচ দিতে হবে। তারপর মাটি গুনাগুন অনুযায়ী কয়েক দিনের মধ্য মাটি যো হয়ে যাবে। এর পর এক পালা মই দিতে হবে এবং এক সারি বিদি দিতে হবে। এর ফলে মাটি হালকা হালকা আঁচড়িয়ে যাবে। এর পর ১.৫ কেজি বা ২ কেজি পেঁয়াজের শুকনা বীজ সুন্দর ভাবে জমিতে ছিটিয়ে দিতে হবে। বীজ ছিটানোর পর হালকা করে মই টেনে দিতে হবে। এর পর ১ম সেচ দিয়ে দিতে হবে।  ৬-৭ দিন পর দেখতে হবে মাটির রস কেমন আছে। তারপর মাটি গুনাগুন অনুযায়ী ১০ দিন পর আবার ২য় সেচ দিতে হবে। সেচ দেওয়ার পর পেঁয়াজের চারা বের হয়ে যাবে। ২য় সেচে সার প্রয়োগঃ ৩৩ শতক জমির হিসাব অনুযায়ী ডি এ পি ৩০ কেজি, টি এস পি ১০ কেজি, ইউরিয়া ২০ কেজি, বোরন ১ কেজি, থিয়োভিট ২ কেজি, সালফেট ৫ কেজি, ইত্যাদি সার দিতে হবে। ২য় সেচ দেওয়ার পর মাটির গুনাগুন অনুযায়ী ৫-৭ দিন পর নিড়ানি দিয়ে খুচিয়ে দিতে হবে। এহাতে মাটি হালকা হয় ফলে পেঁয়াজ গাছে পুস্তন ভাল হয় এবং ফলন ভাল হয়। এরপর প্রয়োজনমত কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। ৩য় সেচে সার প্রয়োগঃ ৩৩ শতক জমির হিসাব অনুযায়ী ডি এ পি ৪০ কেজি, ইউরিয়া ২০-২৫ কেজি, পটাশ ১০ কেজি, দস্তা ৪ কেজি, সালফেট ৮ কেজি ইত্যাদি সার দিতে হবে। ৩য় সেচ দেওয়ার পর মাটির গুনাগুন অনুযায়ী ৫-৭ দিন পর নিড়ানি দিতে হবে। এরপর প্রয়োজনমত কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে।  ৪র্থ সেচে সার প্রয়োগঃ মাটি অনুযায়ী আনুমানিক ১২- ১৩ দিন পর আবার সেচ দিতে হবে। ৩৩ শতক জমির হিসাব অনুযায়ী ডি এ পি ৩০ কেজি, পটাশ ১০ কেজি, ইউরিয়া ২০ কেজি, সালফেট ৫ কেজি,  ইত্যাদি সার দিয়ে সেচে দিতে হবে। সেচ দেওয়ার পর মাটির গুনাগুন অনুযায়ী ৫-৭ দিন পর নিড়ানি দিতে হবে। এরপর প্রয়োজনমত কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। ৫ম সেচে সার প্রয়োগঃ মাটি অনুযায়ী আনুমানিক ১২- ১৩ দিন পর আবার সেচ দিতে হবে। ৩৩ শতক জমির হিসাব অনুযায়ী ডি এ পি ৪০ কেজি, ইউরিয়া ২০ কেজি দস্তা ৪ কেজি, থিয়োভিট ১ কেজি ইত্যাদি সার দিয়ে সেচে দিতে হবে। সেচ দেওয়ার পর মাটির গুনাগুন অনুযায়ী ৫-৭ দিন পর নিড়ানি দিতে হবে। এরপর প্রয়োজনমত কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। ৬ষ্ট সেচে সার প্রয়োগঃ মাটি অনুযায়ী আনুমানিক ১২- ১৩ দিন পর আবার সেচ দিতে হবে। ৩৩ শতক জমির হিসাব অনুযায়ী ডি এ পি ৩০ কেজি, টি এস পি ২৫ কেজি, ইউরিয়া ৩০ কেজি, পটাশ ১০ কেজি ইত্যাদি সার দিয়ে সেচে দিতে হবে। সেচ দেওয়ার পর মাটির গুনাগুন অনুযায়ী ৫-৭ দিন পর নিড়ানি দিতে হবে। এরপর প্রয়োজনমত কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। ৭ম সেচে সার প্রয়োগঃ মাটি অনুযায়ী আনুমানিক ১২- ১৩ দিন পর আবার সেচ দিতে হবে। ৩৩ শতক জমির হিসাব অনুযায়ী ডি এ পি ১০-১৫ কেজি, ইউরিয়া ১০-১৫ কেজি ইত্যাদি সার দিয়ে সেচে দিতে হবে। সেচ দেওয়ার পর মাটির গুনাগুন অনুযায়ী ৫-৭ দিন পর নিড়ানি দিতে হবে। এরপর প্রয়োজনমত কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। প্রয়োজন হলে আর সেচ দিতে হবে তবে কোন সার দেওয়ার দরকার নেই।  এর পর মাটি শুকালে পেঁয়াজ বিক্রয় করে দিতে হবে। যদি পেঁয়াজ ১ বছর সংরক্ষন করে রেখে দিতে চান তাহলে পেঁয়াজের গাছ খুব ভাল করে শুকিয়ে উঠাতে হবে। পেঁয়াজের গাছ কমপক্ষে ৪ ইঞ্চি রেখে কেটে বা ছিঁড়ে ঝুলিয়ে/ মাচায় রেখে সংরক্ষন করবেন। পেঁয়াজ বিক্রয়ের বা উঠানোর ৩০ দিন আগে থেকে মাটি ও পেঁয়াজ শুকাতে হবে। যাহাতে পেঁয়াজ শুকনা থাকে । উঠানোর ১৫ দিনের মধ্য পানি পেলে পেঁয়াজ ২৫% পচে যাবে।  বপনে সুখ সাগর পেঁয়াজের ফলন ৩৩ শতকে ১৮০-২০০ মন। কীটনাশক হিসাবে এমামেকটিন বেনজয়েট গ্রুপ যেমনঃ ফ্রিজ, কাপলান, কনফিডর, বারুদ ইত্যাদি ছত্রাকনাশক হিসাবেঃ ইপ্রোডিয়ন গ্রুপের                                                        = রোভরাল, সেভরাল Azoxystrobin + Chlorothalonil গ্রুপের        = এ্যাজোনিল কার্বেন্ডাজিম (Carbendazim)  গ্রুপের                      = কাফা, টেবুকোনাজল গ্রুপের                                                     = ফলিকুর প্রোপিকোনাজল গ্রুপের                                                   = টিল্ট ৫০ মিলি মেনকোজেব + মেটালেক্সিল গ্রুপের                                    = রিডোমিল গোল্ড টেবুকোনাজল+ টাইফ্লক্সিস্ট্রবিন গ্রুপের                                = নাটিভো ৭৫ডব্লিউ জি Fluopyram &Tebuconazole গ্রুপের                = লুনা মেনকোজেব ৬৩% + কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের                           = গোল্ড হোপ ৭৫ ডাব্লিউ নাইট্রোবেনজিন ২০% ডব্লিউ গ্রুপের                                   = Flora- ফ্লোরা ডাইফেনোকোনাজোল গ্রুপের                                           = স্কোর উক্ত ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক গুলো পর্যায়ক্রমিক ভাবে পেঁয়াজের পাতার রঙ দেখে বুঝে স্প্রে করতে হবে।     
পেঁয়াজের ফুল চাষ

পেঁয়াজের ফুল চাষ

Mithu Seeds কোম্পানি নিজস্ব জমিতে নিজস্ব উপায়ে শতভাগ অরজিনাল সুখ সাগর পেঁয়াজের দানা চাষ করে। আমাদের উৎপাদন কেন্দ্র হচ্ছে ইন্ডিয়ান জিরাট ও মেহেরপুর আনন্দবাস। এই সুখ সাগর পেঁয়াজের দানা শতভাগ গ্যারান্টি সহকারে কৃষকদের কাছে বিক্রয় করা হয়। এছাড়াও আমাদের নির্ধারিত ডিলারদের কাছে Mithu Seeds এর অরজিনাল সুখ সাগর পেঁয়াজের দানা পেয়ে যাবেন। Mithu Seeds কোম্পানি মাস্টার সুখ সাগর, মাস্টার হাইব্রিড সুখ সাগর, মাস্টার সুখ সাগর গোল্ড, মাস্টার জিরাট সুখ সাগর ও মাস্টার গ্রীষ্মকালীন নাসিক  ইত্যাদি এই ৫ কোয়ালিটির পেঁয়াজের দানা নিজ ক্ষেতে উৎপাদন করে কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করছে। Mithu Seeds কোম্পানির পরিচালক মোঃ শফিকুল ইসলাম (মিঠূ) আনন্দবাস, মুজিবনগর, মেহেরপুর মোবাইলঃ ০১৮১২-৬০০৯৯৫ ( WhatsApp ) / ০১৭১৫-৪৯৪৮৭৯
আনন্দবাস গ্রামের পেঁয়াজ

আনন্দবাস গ্রামের পেঁয়াজ

Mithu Seeds নিজস্ব জমিতে নিজস্ব উপায়ে শতভাগ অরজিনাল সুখ সাগর পেঁয়াজের দানা চাষ করি।এই সুখ সাগর পেঁয়াজের দানা শতভাগ গ্যারান্টি সহকারে কৃষকদের কাছে বিক্রয় করা হয়। এছাড়াও আমাদের নির্ধারিত ডিলারদের কাছে Mithu Seeds এর অরজিনাল সুখ সাগর পেঁয়াজের দানা পেয়ে যাবেন। Mithu Seeds কোম্পানির নিজস্ব জমিতে উৎপাদিত অরজিনাল সুখ সাগর দানার পাশাপাশি ইন্ডিয়ান প্যাকেটজাত সুখ সাগর যেমনঃ জিরাট সুখ সাগর, কলস সীডস এর সুখ সাগর ( KSP 106) দানা, মহারাষ্ট্রের হাই ব্রিড সুখ সাগর দানা, শতভাগ গ্যারান্টি সহকারে কৃষকদের কাছে বিক্রয় করা হয়। এছাড়াও Mithu Seeds কোম্পানিতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের দানা, বর্ষাকালীন পেঁয়াজের দানা, বারি ৫ পেঁয়াজের দানা পাওয়া যায়।  
রোপনে পেঁয়াজ চাষ পদ্ধতি

রোপনে পেঁয়াজ চাষ পদ্ধতি

জমি তৈরিঃ ট্রাক্টর দিয়ে ৩টি চাষ দিতে হবে। মাটি ছোট ছোট ঝুর ঝুরে করে নিতে হবে। জমি যেন পরিস্কার পরিছন্ন হয়। জমির শেষ চাষে বিঘা প্রতি টি এস পি ২৫কেজি, পটাশ ১৫ কেজি, দস্তা ২ কেজি ইত্যাদি সার এবং মাটি শোধন বিষ অথবা ফোরাডান ২ কেজি দিতে হবে এবং মই দিয়ে জমি সমান করে মাটি প্রস্তুত করে নিতে হয়। চারা রোপণঃ চারা রোপণের ১দিন আগে জমি ভিজিয়ে নিতে হবে। পরের দিন অথবা চারা রোপণের দিন ১ পালা মই দিতে হবে। মই দেওয়ার পূর্বে বিঘা প্রতি ১৫কেজি ড্যাপ, ১০কেজি ইউরিয়া ছিটিয়ে দিতে হবে। এর পর ঘাস রোধক বিষ ৩ বোতল বা ৩০০ গ্রাম দানা করে সারের সাথে মিশিয়ে জমিতে প্রয়োগ করতে হবে। পরের সেচে ২০০ গ্রাম করে দিতে হবে। ৪ ইঞ্চি দূরত্ব বজায় রেখে পেয়াজের চারা রোপণ করে দিতে হবে। এর পর ৫-৭ দিন পর ৪৮ লিটার পানিতে ১৫০ গ্রাম ছত্রাকনাশক ও ১০০ গ্রাম কীটনাশক স্প্রে করে দিতে হবে। ১০-১৫ দিন পর যখন মাটি শুকিয়ে যাবে তখন ২য় সেচ দিতে হবে। ২য় সেচে সার প্রয়োগঃ বিঘা প্রতি ড্যাপ ৩০ কেজি, টি এস পি ১০ কেজি, ইউরিয়া ২০ কেজি, বোরন ৫০০ গ্রাম, থিয়োভিট ১ কেজি, সালফেট ৫ কেজি ইত্যাদি সার ও বিষ ২য় সেচে দিতে হবে। এর পর ৫-৭ দিন পর খুচিয়ে/ নিড়িন/ কুপিয়ে দিতে হবে।  এর পর পেঁয়াজের গাছের অবস্থা অনুযায়ী কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। যাহাতে পেঁয়াজের পাতা সতেজ থাকে। ৩য় সেচে সার প্রয়োগঃ বিঘা প্রতি ড্যাপ ৪০ কেজি, টি এস পি ১০ কেজি, ইউরিয়া ২০ কেজি, দস্তা ৪ কেজি, সালফেট ৮ কেজি,  ইত্যাদি সার ও বিষ ৩য় সেচে দিতে হবে। এর পর মাটি হালকা শুকানোর পর খুচিয়ে/ নিড়িন/ কুপিয়ে দিতে হবে।  এর পর পেঁয়াজের গাছের অবস্থা অনুযায়ী কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। যাহাতে পেঁয়াজের পাতা সতেজ থাকে। ৩য় সেচের পর মাটি খুব ভাল করে শুকাতে হবে। যাহাতে পেঁয়াজের গাছ নেতিয়ে পড়ে/ শুকিয়ে যাওয়া ভাব/ মারা যাচ্ছে / ঝলসানো ভাব হয় এবং মাটি ফেটে ফেটে যাবে ঠিক তখন ৪র্থ সেচ দিয়ে দিতে হবে। ৪র্থ সেচে সার প্রয়োগঃ এই সেচে ইউরিয়া ২০ কেজি,  থিয়োভিট ১ কেজি দিতে হবে।  এর পর মাটি শুকালে পেঁয়াজ বিক্রয় করে দিতে হবে। যদি পেঁয়াজ ১ বছর সংরক্ষন করে রেখে দিতে চান তাহলে পেঁয়াজের গাছ খুব ভাল করে শুকিয়ে উঠাতে হবে। পেঁয়াজের গাছ কমপক্ষে ৪ ইঞ্চি রেখে কেটে বা ছিঁড়ে ঝুলিয়ে/ মাচায় রেখে সংরক্ষন করবেন।