লক্ষ্য: বড় কন্দ, রোগমুক্ত গাছ এবং সর্বোচ্চ ফলন নিশ্চিত করা।
চাষ: ৩–৪টি চাষ দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে।
পদ্ধতি: পানি নিষ্কাশনের জন্য উঁচু বেড পদ্ধতিতে চাষ করা সবচেয়ে ভালো।
দূরত্ব: সারি থেকে সারি ১৫–২০ সেমি এবং গাছ থেকে গাছ ৮–১০ সেমি বজায় রাখুন।
| সারের নাম | শতক প্রতি পরিমাণ | বিঘা প্রতি পরিমাণ (৩৩ শতক) |
| পচা গোবর/কম্পোস্ট | ২৫–৩০ কেজি | ৫০০–৬০০ কেজি |
| ইউরিয়া | ১.০–১.২ কেজি | ২০–২৪ কেজি |
| টিএসপি (TSP) | ৫০০–৬০০ গ্রাম | ১০–১২ কেজি |
| এমওপি (পটাশ) | ৫০০–৬০০ গ্রাম | ১০–১২ কেজি |
| জিপসাম | ৩০০ গ্রাম | ৬–৭ কেজি |
| বোরন | ৮–১০ গ্রাম | ১৫০–১৮০ গ্রাম |
| জিঙ্ক সালফেট | ৪০–৫০ গ্রাম | ৮০০–৯০০ গ্রাম |
বিশেষ দ্রষ্টব্য: বোরন ও পটাশের সঠিক সমন্বয় পেঁয়াজের কন্দ বড় করে এবং পচন রোধ করে।
রোপণের আগে নিচের সারগুলো একসাথে মাটিতে মিশিয়ে দিন:
সম্পূর্ণ গোবর, টিএসপি, জিপসাম, বোরন ও জিঙ্ক।
এমওপি (পটাশ) সারের অর্ধেক অংশ।
সময়: রোপণের ২০–২২ দিন পর।
সার: মোট ইউরিয়ার অর্ধেক এবং অবশিষ্ট পটাশের অর্ধেক।
কাজ: সার দেওয়ার পর নিড়ানি দিয়ে হালকা সেচ দিন।
সময়: রোপণের ৪০–৪৫ দিন পর।
সার: বাকি থাকা সম্পূর্ণ ইউরিয়া ও পটাশ।
কাজ: এই সময়ে সার দিলে কন্দ দ্রুত মোটা ও পুষ্ট হয়।
পাতা হলুদ হওয়া: নাইট্রোজেন ঘাটতি (ইউরিয়া ২০০-২৫০ গ্রাম/শতক প্রয়োগ করুন)।
পাতার ডগা শুকানো: পটাশ ঘাটতি (MOP ২০০ গ্রাম/শতক প্রয়োগ করুন)।
কন্দ ছোট থাকা: বোরন/জিঙ্ক ঘাটতি (বোরিক অ্যাসিড ১ গ্রাম/লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করুন)।
পাতা চিকন হওয়া: সালফার ঘাটতি (জিপসাম ১৫০-২০০ গ্রাম/শতক প্রয়োগ করুন)।
সেচ: কন্দ গঠনের সময় মাটিতে রস থাকা জরুরি। তবে সংগ্রহের ১৫–২০ দিন আগে সেচ বন্ধ করে দিন যাতে পেঁয়াজ শক্ত হয়।
রোগ দমন: পার্পল ব্লচ বা ডাউনি মিলডিউ দমনে ম্যানকোজেব (২.৫ গ্রাম/লিটার) অথবা মেটাল্যাক্সিল + ম্যানকোজেব ১০ দিন পর পর স্প্রে করুন।
আগাছা: রোপণের ১৫ ও ৩০ দিন পর অবশ্যই নিড়ানি দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করুন।
ইউরিয়া একবারে নয়: ইউরিয়া সার সবসময় ২-৩ কিস্তিতে ভাগ করে দিন।
পটাশের ব্যবহার: পটাশ দুই কিস্তিতে দিলে পেঁয়াজের উজ্জ্বলতা ও ওজন বাড়ে।
বোরন ও জিঙ্ক: এই দুটি অনুখাদ্য পেঁয়াজ ফেটে যাওয়া রোধ করে এবং কন্দ বড় করে।
নিষ্কাশন: জমিতে কোনোভাবেই পানি জমতে দেবেন না; বেড শুকনা ও ঝুরঝুরে রাখুন।