পেঁয়াজের কন্দ বা বাল্ব বড়, ওজনদার এবং উন্নত মানের করার জন্য পটাশ সারের পাশাপাশি কিছু নির্দিষ্ট অনুখাদ্য (Micronutrients) এবং হরমোন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে সেগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
পেঁয়াজের আকার বৃদ্ধির জন্য বোরন সবচেয়ে জরুরি অনুখাদ্য।
কাজ: এটি কোষ বিভাজনে সাহায্য করে এবং গাছের তৈরি খাবার পাতা থেকে শিকড়ে (পেঁয়াজে) পাঠাতে সাহায্য করে। বোরনের অভাবে পেঁয়াজ ফেটে যেতে পারে।
প্রয়োগ: প্রতি লিটার পানিতে ১-১.৫ গ্রাম সলোবর বোরন মিশিয়ে রোপণের ৩০ ও ৫০ দিন পর স্প্রে করুন।
পেঁয়াজ যেহেতু একটি ঝাঁঝালো ফসল, তাই সালফার এর জন্য অপরিহার্য।
কাজ: এটি পেঁয়াজের ঝাঁজ বাড়ায়, রঙ সুন্দর করে এবং খোসা শক্ত করে। এটি প্রাকৃতিক ছত্রাকনাশক হিসেবেও কাজ করে।
প্রয়োগ: জমি তৈরির সময় জিপসাম সার হিসেবে দিন। এছাড়া প্রয়োজনে ৮০% সালফার (যেমন- থিওভিট) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম মিশিয়ে স্প্রে করতে পারেন।
কাজ: জিংক গাছের হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে এবং গাছকে খাটো হওয়া থেকে রক্ষা করে। এটি গাছের বিপাকীয় কাজ সচল রাখে, ফলে কন্দ দ্রুত বড় হয়।
প্রয়োগ: জমি তৈরির সময় দানাদার জিংক দিতে পারেন অথবা কিলেটেড জিংক (যেমন- লিবরেল জিংক) ০.৫ গ্রাম/লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে পারেন।
কাজ: ক্যালসিয়াম পেঁয়াজের কোষ প্রাচীর শক্ত করে। এতে পেঁয়াজ দীর্ঘ সময় গুদামজাত করে রাখা যায় (পচন ধরে না)।
প্রয়োগ: ক্যালসিয়াম ও বোরন মিশ্রিত সার (যেমন- ক্যালবো) স্প্রে করা খুবই ফলদায়ক।
যদি গাছের লতা অনেক বড় হয়ে যায় কিন্তু পেঁয়াজ বড় না হয়, তবে PGR (Plant Growth Regulator) ব্যবহার করা যেতে পারে:
প্যাক্লোবিউট্রাজল (Paclobutrazol): এটি লতার বৃদ্ধি কমিয়ে সব শক্তি পেঁয়াজের কন্দ বড় করতে ব্যয় করে। এটি পেঁয়াজ সংগ্রহের ২০-৩০ দিন আগে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
চমৎকার ফল পেতে: পটাশিয়াম সালফেট (০-০-৫০) ৫ গ্রাম + সলোবর বোরন ১ গ্রাম একসাথে ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করলে পেঁয়াজ দ্রুত মোটা ও উজ্জ্বল হয়।
অনুখাদ্যগুলো সবসময় বিকেলে স্প্রে করবেন। স্প্রে করার সময় জমিতে পর্যাপ্ত রস (আর্দ্রতা) থাকা জরুরি। শুকনো জমিতে স্প্রে করলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যায় না।