পেঁয়াজ চাষে আগাছা একটি বড় বাধা। বিশেষ করে মুথা ও দুর্বা ঘাস মাটির পুষ্টি শোষন করে পেঁয়াজের বৃদ্ধি কমিয়ে দেয়। নিচে এগুলো দমনের ৩টি প্রধান পদ্ধতি দেওয়া হলো:
হাতে নিড়ানি দেওয়া: আগাছা ছোট থাকতেই হাত দিয়ে বা নিড়ানি দিয়ে শিকড়সহ তুলে ফেলতে হবে। বীজ হওয়ার আগে পরিষ্কার করলে পরবর্তী মৌসুমে আগাছা কম হয়।
গভীর চাষ: জমি তৈরির সময় লাঙল বা রোটাভেটর দিয়ে গভীরভাবে চাষ দিন। এতে মুথা ঘাসের 'গুটি' এবং দুর্বার শিকড় উপরে উঠে আসে এবং রোদে শুকিয়ে মারা যায়।
মালচিং: চারা রোপণের পর সারির মাঝখানে শুকনো খড় বা নাড়া দিয়ে ঢেকে দিলে আগাছা জন্মানোর সুযোগ পায় না।
রাসায়নিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সময় এবং মাত্রা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
পেনডিমিথালিন ৩০% ইসি (যেমন: পেনডাম বা পান্ডা): * মাত্রা: প্রতি ১০ লিটার পানিতে ৩৩ মি.লি.।
সময়: বীজ বপন বা চারা রোপণের ৩ দিনের মধ্যে (আগাছা গজানোর আগে) ভেজা মাটিতে স্প্রে করতে হবে।
কিউহ্যালোফপ ৫% ইসি (যেমন: কুইজ বা টারগা সুপার):
মাত্রা: প্রতি ১০ লিটার পানিতে ২০-২৫ মি.লি.।
সময়: পেঁয়াজ চারা বের হওয়ার ১৫-২০ দিন পর যখন আগাছা ২-৩ পাতা বিশিষ্ট হয়। এটি ঘাস জাতীয় আগাছা (যেমন: দুর্বা) দমনে খুব কার্যকর।
গ্লাইফোসেট ৪৮% এসএল: এটি অত্যন্ত শক্তিশালী। পেঁয়াজ গাছের ফাঁকে শুধু দুর্বা ঘাসের ওপর 'স্পট স্প্রে' করা যেতে পারে।
সতর্কতা: এটি পেঁয়াজ গাছের গায়ে লাগলে গাছ মারা যাবে।
জৈব মালচিং: কচুরিপানা বা খড় দিয়ে জমি ঢেকে রাখলে আগাছার অঙ্কুরোদগম কমে যায়।
ঘরোয়া স্প্রে: খুব সীমিত পরিসরে ভিনেগার বা লবণ মিশ্রিত পানি শুধুমাত্র আগাছার গোড়ায় স্প্রে করা যেতে পারে, তবে বড় জমিতে এটি ব্যয়বহুল।
নির্দেশিকা অনুসরণ: যেকোনো আগাছানাশক ব্যবহারের আগে প্যাকেটের গায়ে লেখা নিয়ম ও মাত্রা ভালোভাবে পড়ে নিন।
আবহাওয়া: স্প্রে করার সময় আকাশ পরিষ্কার থাকতে হবে। বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে স্প্রে করবেন না।
সতর্ক স্প্রে: রাসায়নিক ব্যবহারের সময় খেয়াল রাখবেন যেন স্প্রে করা ওষুধ সরাসরি পেঁয়াজের কচি পাতার ওপর না পড়ে (নির্বাচনী আগাছানাশক বাদে)।
নিরাপত্তা: স্প্রে করার সময় অবশ্যই মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করুন।