পেঁয়াজ চাষে আগা ভাঙা (Tip Burn) বা আগা শুকানো একটি মারাত্মক সমস্যা। এতে পাতার আগা প্রথমে হলুদ হয়ে যায়, পরে শুকিয়ে ভেঙে পড়ে। ফলে পেঁয়াজের আকার ছোট হয় এবং ফলন অনেকাংশে কমে যায়।
১. পুষ্টির অভাব: মাটিতে বিশেষ করে পটাশ, সালফার, জিংক ও বোরনের ঘাটতি থাকলে এই সমস্যা দেখা দেয়।
২. অনিয়মিত সেচ: জমি অতিরিক্ত শুকিয়ে যাওয়া অথবা হঠাৎ করে অতিরিক্ত পানি দেওয়ার ফলে গাছ শক (Shock) পায়।
৩. ছত্রাকের আক্রমণ: কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় Alternaria বা Stemphylium জাতীয় ছত্রাকের কারণে পাতায় মড়ক ধরে।
৪. অতিরিক্ত নাইট্রোজেন: মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়া সার ব্যবহার করলে পাতা নরম হয়ে যায় এবং সহজেই ভেঙে পড়ে।
৫. আবহাওয়ার প্রভাব: শীতের তীব্রতা, ঘন কুয়াশা এবং শুষ্ক ঠান্ডা বাতাস এই সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।
৬. ঘন করে রোপণ: গাছের মধ্যে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করতে না পারলে রোগ দ্রুত ছড়ায়।
পেঁয়াজের ফলন ঠিক রাখতে নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করুন:
জমি তৈরির সময় পর্যাপ্ত পটাশ (MoP) ও জিপসাম (সালফার) প্রয়োগ করুন।
পাতা সবুজ ও সতেজ রাখতে প্রতি লিটার পানিতে ১-২ গ্রাম পটাশিয়াম সালফেট মিশিয়ে স্প্রে করুন।
বোরনের অভাব দূর করতে লিটার প্রতি ১ গ্রাম বোরিক এসিড ১৫-২০ দিন অন্তর স্প্রে করা ভালো।
মাটি ফেটে যাওয়ার আগেই নিয়মিত হালকা সেচ দিন।
জমিতে পানি জমতে দেবেন না; নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভালো রাখুন।
অতিরিক্ত রোদে বা প্রচণ্ড খরায় সেচের ব্যবধান কমিয়ে আনুন।
যদি আক্রমণ ছত্রাকজনিত মনে হয়, তবে নিচের যেকোনো একটি ছত্রাকনাশক ব্যবহার করুন:
ম্যানকোজেব (যেমন: ডাইথেন এম-৪৫) অথবা ক্লোরোথালোনিল ২ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করুন।
৭-১০ দিন পরপর ২-৩ বার স্প্রে করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
আক্রান্ত পাতাগুলো সাবধানে তুলে ধ্বংস করে ফেলুন।
রোগ প্রতিরোধে ৭-১০ দিন পরপর একবার নিম তেল স্প্রে করতে পারেন।
দূরত্ব বজায় রাখুন: চারা রোপণের সময় সারি থেকে সারির নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখুন যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে।
ইউরিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখুন: শুধু ইউরিয়া সারের ওপর নির্ভর না করে সুষম সার দিন।
কুয়াশা থেকে সুরক্ষা: খুব ভোরে বা কুয়াশা থাকা অবস্থায় গাছে স্পর্শ না করাই ভালো।
আগাছা পরিষ্কার: জমি সবসময় আগাছামুক্ত রাখুন।