বপনে উপযুক্ত মাটি হচ্ছে বেলে-দোয়াশ ও পলি-দোয়াশ
জমি তৈরিঃ ট্রাক্টর দিয়ে ৩টি চাষ দিতে হবে। মাটি ছোট ছোট ঝুর ঝুরে করে নিতে হবে। জমি যেন পরিস্কার পরিছন্ন হয়। জমির শেষ চাষে বিঘা প্রতি টি এস পি ২৫কেজি, পটাশ ১৫ কেজি, দস্তা ২ কেজি সার এবং
ফোরাডান মাটি শোধন বিষ ২ কেজি ইত্যাদি দিয়ে মাটি প্রস্তুত করে নিতে হবে। তারপর রোটার দিয়ে মাটি ছোট ছোট করে নিতে হবে।
বপনঃ রোটার দিয়ে মাটি ছোট করে নেওয়ার পর মাটি খুব ভাল করে শুকিয়ে নিয়ে সেচ দিতে হবে। তারপর মাটি গুনাগুন অনুযায়ী কয়েক দিনের মধ্য মাটি যো হয়ে যাবে। এর পর এক পালা মই দিতে হবে এবং এক সারি বিদি দিতে হবে। এর ফলে মাটি হালকা হালকা আঁচড়িয়ে যাবে। এর পর ১.৫ কেজি বা ২ কেজি পেঁয়াজের শুকনা বীজ সুন্দর ভাবে জমিতে ছিটিয়ে দিতে হবে। বীজ ছিটানোর পর হালকা করে মই টেনে দিতে হবে। এর পর ১ম সেচ দিয়ে দিতে হবে।
৬-৭ দিন পর দেখতে হবে মাটির রস কেমন আছে। তারপর মাটি গুনাগুন অনুযায়ী ১০ দিন পর আবার ২য় সেচ দিতে হবে। সেচ দেওয়ার পর পেঁয়াজের চারা বের হয়ে যাবে।
২য় সেচে সার প্রয়োগঃ
৩৩ শতক জমির হিসাব অনুযায়ী ডি এ পি ৩০ কেজি, টি এস পি ১০ কেজি, ইউরিয়া ২০ কেজি, বোরন ১ কেজি, থিয়োভিট ২ কেজি, সালফেট ৫ কেজি, ইত্যাদি সার দিতে হবে।
২য় সেচ দেওয়ার পর মাটির গুনাগুন অনুযায়ী ৫-৭ দিন পর নিড়ানি দিয়ে খুচিয়ে দিতে হবে। এহাতে মাটি হালকা হয় ফলে পেঁয়াজ গাছে পুস্তন ভাল হয় এবং ফলন ভাল হয়। এরপর প্রয়োজনমত কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে।
৩য় সেচে সার প্রয়োগঃ
৩৩ শতক জমির হিসাব অনুযায়ী ডি এ পি ৪০ কেজি, ইউরিয়া ২০-২৫ কেজি, পটাশ ১০ কেজি, দস্তা ৪ কেজি, সালফেট ৮ কেজি ইত্যাদি সার দিতে হবে।
৩য় সেচ দেওয়ার পর মাটির গুনাগুন অনুযায়ী ৫-৭ দিন পর নিড়ানি দিতে হবে। এরপর প্রয়োজনমত কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে।
৪র্থ সেচে সার প্রয়োগঃ
মাটি অনুযায়ী আনুমানিক ১২- ১৩ দিন পর আবার সেচ দিতে হবে।
৩৩ শতক জমির হিসাব অনুযায়ী ডি এ পি ৩০ কেজি, পটাশ ১০ কেজি, ইউরিয়া ২০ কেজি, সালফেট ৫ কেজি, ইত্যাদি সার দিয়ে সেচে দিতে হবে।
সেচ দেওয়ার পর মাটির গুনাগুন অনুযায়ী ৫-৭ দিন পর নিড়ানি দিতে হবে। এরপর প্রয়োজনমত কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে।
৫ম সেচে সার প্রয়োগঃ
মাটি অনুযায়ী আনুমানিক ১২- ১৩ দিন পর আবার সেচ দিতে হবে।
৩৩ শতক জমির হিসাব অনুযায়ী ডি এ পি ৪০ কেজি, ইউরিয়া ২০ কেজি দস্তা ৪ কেজি, থিয়োভিট ১ কেজি ইত্যাদি সার দিয়ে সেচে দিতে হবে।
সেচ দেওয়ার পর মাটির গুনাগুন অনুযায়ী ৫-৭ দিন পর নিড়ানি দিতে হবে। এরপর প্রয়োজনমত কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে।
৬ষ্ট সেচে সার প্রয়োগঃ
মাটি অনুযায়ী আনুমানিক ১২- ১৩ দিন পর আবার সেচ দিতে হবে।
৩৩ শতক জমির হিসাব অনুযায়ী ডি এ পি ৩০ কেজি, টি এস পি ২৫ কেজি, ইউরিয়া ৩০ কেজি, পটাশ ১০ কেজি ইত্যাদি সার দিয়ে সেচে দিতে হবে।
সেচ দেওয়ার পর মাটির গুনাগুন অনুযায়ী ৫-৭ দিন পর নিড়ানি দিতে হবে। এরপর প্রয়োজনমত কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে।
৭ম সেচে সার প্রয়োগঃ
মাটি অনুযায়ী আনুমানিক ১২- ১৩ দিন পর আবার সেচ দিতে হবে।
৩৩ শতক জমির হিসাব অনুযায়ী ডি এ পি ১০-১৫ কেজি, ইউরিয়া ১০-১৫ কেজি ইত্যাদি সার দিয়ে সেচে দিতে হবে।
সেচ দেওয়ার পর মাটির গুনাগুন অনুযায়ী ৫-৭ দিন পর নিড়ানি দিতে হবে। এরপর প্রয়োজনমত কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে।
প্রয়োজন হলে আর সেচ দিতে হবে তবে কোন সার দেওয়ার দরকার নেই।
এর পর মাটি শুকালে পেঁয়াজ বিক্রয় করে দিতে হবে। যদি পেঁয়াজ ১ বছর সংরক্ষন করে রেখে দিতে চান তাহলে পেঁয়াজের গাছ খুব ভাল করে শুকিয়ে উঠাতে হবে। পেঁয়াজের গাছ কমপক্ষে ৪ ইঞ্চি রেখে কেটে বা ছিঁড়ে ঝুলিয়ে/ মাচায় রেখে সংরক্ষন করবেন।
পেঁয়াজ বিক্রয়ের বা উঠানোর ৩০ দিন আগে থেকে মাটি ও পেঁয়াজ শুকাতে হবে। যাহাতে পেঁয়াজ শুকনা থাকে । উঠানোর ১৫ দিনের মধ্য পানি পেলে পেঁয়াজ ২৫% পচে যাবে।
বপনে সুখ সাগর পেঁয়াজের ফলন ৩৩ শতকে ১৮০-২০০ মন।
কীটনাশক হিসাবে এমামেকটিন বেনজয়েট গ্রুপ যেমনঃ ফ্রিজ, কাপলান, কনফিডর, বারুদ ইত্যাদি
ছত্রাকনাশক হিসাবেঃ
ইপ্রোডিয়ন গ্রুপের = রোভরাল, সেভরাল
Azoxystrobin + Chlorothalonil গ্রুপের = এ্যাজোনিল
কার্বেন্ডাজিম (Carbendazim) গ্রুপের = কাফা,
টেবুকোনাজল গ্রুপের = ফলিকুর
প্রোপিকোনাজল গ্রুপের = টিল্ট ৫০ মিলি
মেনকোজেব + মেটালেক্সিল গ্রুপের = রিডোমিল গোল্ড
টেবুকোনাজল+ টাইফ্লক্সিস্ট্রবিন গ্রুপের = নাটিভো ৭৫ডব্লিউ জি
Fluopyram &Tebuconazole গ্রুপের = লুনা
মেনকোজেব ৬৩% + কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের = গোল্ড হোপ ৭৫ ডাব্লিউ
নাইট্রোবেনজিন ২০% ডব্লিউ গ্রুপের = Flora- ফ্লোরা
ডাইফেনোকোনাজোল গ্রুপের = স্কোর
উক্ত ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক গুলো পর্যায়ক্রমিক ভাবে পেঁয়াজের পাতার রঙ দেখে বুঝে স্প্রে করতে হবে।